কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারু সম্প্রতি দলের সংস্থাগত শক্তি বাড়ানোর গুরুত্ব নিয়ে মন্তব্য করেছেন এবং সিনিয়র নেতা দিগ্বিজয় সিংকে সমর্থন জানিয়েছেন। এই মন্তব্য এসেছে সেই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে, যেখানে দিগ্বিজয় সিং সম্প্রতি একটি পুরনো ছবি শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেছিলেন এবং বিজেপি ও এর আদর্শিক পিতৃসংগঠন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সংস্থাগত শক্তি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন।
২০২৫ সালের কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা দিবসের ১৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে থারু বলেন, “আমরা বন্ধু। বন্ধু হিসেবে কথা বলা স্বাভাবিক। আমাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে – এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।” এই মন্তব্যটি এসেছে একদিন পর, যখন দিগ্বিজয় সিং রাজ্যসভা সদস্য হিসেবে একটি ১৯৯০-এর দশকের পুরনো ছবি শেয়ার করেন। পোস্টে তিনি বিজেপি ও RSS-এর সংস্থাগত দক্ষতার প্রশংসা করেন। অনেকেই এই পোস্টকে কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রতি একটি সূক্ষ্ম বার্তা হিসেবে দেখেছেন, বিশেষ করে যখন এটি কংগ্রেসের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি (CWC)-এর সভার সময় প্রকাশিত হয়। দিগ্বিজয় সিং-এর এই পোস্ট কিছু কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন যে, এটি শুধুমাত্র একটি মন্তব্য নয়, বরং দলের মধ্যে নেতৃত্বের সমালোচনা ও দলের কার্যক্রমের প্রতি একধরনের ইঙ্গিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক দিক থেকে এই পদক্ষেপ কংগ্রেসের ভিতকে শক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
শশী থারুর মন্তব্যে মূলত দুটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। প্রথম, তিনি দিগ্বিজয় সিংয়ের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন, যা দেখায় যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে আলোচনা করা স্বাভাবিক। দ্বিতীয়, থারু স্পষ্টভাবে বলেছেন যে কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে হবে এবং সংস্থাগত কাঠামোকে আরও উন্নত করতে হবে। এটি একটি সুস্পষ্ট বার্তা যে, পার্টির ভিতের সংগঠন এবং নেতৃত্বের সমন্বয় কংগ্রেসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে দিগ্বিজয় সিং-এর RSS ও বিজেপি প্রশংসা করা পোস্ট মূলত কংগ্রেসের ভিতর সমালোচনার ইঙ্গিত বহন করছে। যদিও দিগ্বিজয় সরাসরি কোনো দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি, তথাপি তার পোস্টের সময়কাল এবং বিষয়বস্তু দেখিয়ে দিয়েছে যে এটি কংগ্রেসের নেতৃত্বের কাছে একটি সতর্কতা। থারুর মন্তব্য এই পরিস্থিতিতে দিগ্বিজয়কে রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি দলের সংস্থাগত শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
দলের ভিতরে শক্তিশালী সংস্থাগত কাঠামো এবং নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা কংগ্রেসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যখন বিজেপি এবং RSS-এর সংস্থাগত শক্তি অনেক বেশি দৃঢ় এবং সুসংহত। শশী থারুর বক্তব্য কংগ্রেস নেতাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে দলকে পুনর্গঠন এবং সংহত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
