হরিয়ানার ফরিদাবাদে অবস্থিত আল-ফালাহ (Al-Falah)ইউনিভার্সিটি আবার খবরের শিরোনামে। শনিবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৪০ কোটি টাকার সম্পত্তি প্রভিশনালি অ্যাটাচ করেছে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে। এর সঙ্গে ইডি চেয়ারম্যান জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকি এবং আল-ফালাহ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের বিরুদ্ধে স্পেশাল PMLA কোর্টে চার্জশিট দাখিল করেছে।
এই ঘটনা গত বছর নভেম্বরে দিল্লির রেড ফোর্টের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর থেকে চলা তদন্তেরই ধারাবাহিকতা।ইডির তদন্তে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪ একর জমি (ধৌজ এলাকায়), বিভিন্ন স্কুল-বিভাগের ভবন, হোস্টেল সহ সমস্ত পরিকাঠামোকে ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মূল্য প্রায় ১৩৯.৯৭ কোটি টাকা।
২০ বছরে ১২ গুণ বৃদ্ধি! ভারতে বিপন্ন শৈশব, বিচারের অপেক্ষায় ৫.৯ লক্ষ মামলা
ইডির দাবি, সিদ্দিকি এবং ট্রাস্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবহার করে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছে। তারা UGC-র স্বীকৃতি এবং NAAC অ্যাক্রেডিটেশনের মিথ্যা দাবি করে ছাত্রদের প্রতারিত করেছে।
২০১৬ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত এইভাবে প্রায় ৪৯৩ কোটি টাকার অবৈধ আয়ের অভিযোগ উঠেছে।তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ট্রাস্টের তহবিল পরিবার-নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিগুলিতে (যেমন আমলা এন্টারপ্রাইজেস, করকুন কনস্ট্রাকশন) সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিদ্দিকির স্ত্রী ও ছেলের নামে বিদেশে ৪ কোটি টাকার রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছে। ইডির মতে, চ্যারিটেবল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যক্তিগত-পারিবারিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। সিদ্দিকি নভেম্বর ২০২৫-এ গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং বর্তমানে জুডিশিয়াল কাস্টডিতে রয়েছেন।এই বিশ্ববিদ্যালয় গত বছর নভেম্বরের ১০ তারিখে রেড ফোর্টের কাছে কার বিস্ফোরণের পর থেকেই আলোচনায়।
ওই বিস্ফোরণে ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং অনেকে আহত হন। তদন্তে দেখা যায়, বিস্ফোরণকারী ডা. উমর-উন-নবি আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে কাজ করতেন। আরও দুজন ডাক্তার ডা. মুজাম্মিল শাকিল ও ডা. শাহিন শাহিদ ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’-এর অংশ বলে অভিযোগ। NIA এবং দিল্লি পুলিশের তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব থেকে রাসায়নিক সরানোর অভিযোগও উঠেছে।
এই ঘটনার পরই ইডি, NIA সহ একাধিক সংস্থা তদন্ত শুরু করে।এখন ইডির এই কড়া পদক্ষেপে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অনেকে বলছেন, প্রতিষ্ঠানের দোষে কেন সাধারণ ছাত্রদের ক্যারিয়ার বিপন্ন হবে? অন্যদিকে, ইডির দাবি এই অ্যাটাচমেন্ট ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’ ছড়িয়ে পড়া রোধ করার জন্য। তদন্ত চলছে, আরও অভিযোগ উঠতে পারে।
