মহারাষ্ট্রকে সবুজ করে দেবেন এই নেত্রী! ইনি কি ওআইসির হিজাবি প্রধানমন্ত্রী ?

মহারাষ্ট্রের থানে জেলার মুম্ব্রা এলাকায় এআইএমআইএম-এর (AIMIM) ২২ বছরের তরুণ কর্পোরেটর সাহার ইউনুস শেখের একটি বিজয়ী ভাষণ নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সদ্য নির্বাচিত এই…

aimim-sahar-yunus-sheikh-mumbra-controversy

মহারাষ্ট্রের থানে জেলার মুম্ব্রা এলাকায় এআইএমআইএম-এর (AIMIM) ২২ বছরের তরুণ কর্পোরেটর সাহার ইউনুস শেখের একটি বিজয়ী ভাষণ নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সদ্য নির্বাচিত এই নেত্রী তার ভাষণে “পুরো মুম্ব্রাকে সবুজ রঙে রাঙিয়ে দেব” বলে ঘোষণা করেছেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।

Advertisements

   

কেউ কেউ এটাকে ‘মহারাষ্ট্রকে সবুজ করে দেওয়ার’ হুমকি বলে দেখছেন, আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন এই নেত্রী কি ওআইসির হিজাবি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন? সাহার ইউনুস শেখ বলেছেন, “আমরা ভারতীয় মুসলিম, কেউ আমাদের বলতে পারবে না কোথায় যেতে হবে। এটা আমাদের দেশ। মুম্ব্রায় হিন্দু-মুসলিম শান্তিতে একসঙ্গে বাস করে। জনগণ সব জানে। অনেক হিন্দু ভাই-বোনও আমার সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন।

বাংলাদেশের পর এবার পাকিস্তানের ডানা ছাটলেন জয় শাহ

অনেক জায়গায় আমার বক্তব্যের ক্লিপ অসম্পূর্ণভাবে খেলানো হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি আমার পতাকা কমলা রঙের হতো, তাহলে কি এত হইচই হতো? গ্রিন কালার আমার দলের পতাকার রঙ। এটা দলের জয় ও উন্নয়নের প্রতীক।” তার দাবি, ‘সবুজ রঙে রাঙানো’ বলতে তিনি এআইএমআইএম-এর প্রভাব বাড়ানোর কথা বলেছেন এলাকার উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, গাছ লাগানোর মতো কাজের মাধ্যমে।

কোনও সাম্প্রদায়িক অর্থ নয়।ঘটনাটি শুরু হয়েছে মুম্ব্রা-কালওয়া এলাকার সাম্প্রতিক নাগরিক নির্বাচনে এআইএমআইএম-এর বড় সাফল্যের পর। সাহার ওয়ার্ড নম্বর ৩০ থেকে বিপুল ভোটে জিতে এসেছেন। বিজয়ী ভাষণে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেছিলেন, “আগামী পাঁচ বছর পর যখন নির্বাচন হবে, তখন আরও বড় মুখ তোড় জবাব দেবেন। পুরো মুম্ব্রাকে গ্রিন কালার দিয়ে এমন রাঙিয়ে দেব যে এখানকার লোকদের পছড়ে বের করে দেওয়া যাবে।

ইনশাআল্লাহ, পাঁচ বছর পর শুধু এআইএমআইএম-এর প্রার্থীরাই থাকবে।” এই কথা শুনে মহায়ুতি জোট, শিবসেনা (শিন্ডে), এনসিপি (এসপি) নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নবনীত রানা-র মতো নেত্রী এটাকে হিন্দু-বিরোধী বলে আক্রমণ করেছেন। পুলিশ তাকে দু’বার থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।পরে সাহার ক্ষমা চেয়েছেন যদি কারও মনে আঘাত লেগে থাকে। তিনি বলেছেন, ভাষণের সময় আবেগের বশে কথাগুলো বলা হয়েছে।

এর আগে তিনি ইনস্টাগ্রাম রিলস থেকে রাজনীতিতে এসেছেন এবং তরুণ মুসলিম ভোটারদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। তার হিজাব পরা ছবি ও সাহসী ভাষণ তাকে ‘হিজাবি নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত করেছে। কেউ কেউ তাকে ‘ওআইসির হিজাবি প্রধানমন্ত্রী’ বলে বিদ্রূপ করছেন, কিন্তু সাহার জোর দিয়ে বলছেন যে তিনি ভারতীয় মুসলিম এবং দেশের প্রতি তার আনুগত্য অটুট।

এই বিতর্ক মুম্ব্রার সামাজিক সম্প্রীতির ওপর প্রশ্ন তুলেছে। মুম্ব্রা একটা মিশ্র এলাকা, যেখানে হিন্দু-মুসলিম পাশাপাশি বাস করে। সাহারের দাবি অনুযায়ী, অনেক হিন্দু তার সমর্থনে এসেছেন এবং বলছেন যে ক্লিপ কাটছাঁট করে ভুল বোঝানো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা তরুণ নেতাদের আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ, কিন্তু ভাষার সতর্কতা না থাকলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়তে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা শান্তি বজায় রাখার জন্য সতর্ক রয়েছে।

Advertisements