মহারাষ্ট্রে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM)-এর সাফল্য এবং অসমে বিজেপির কৌশলগত সিদ্ধান্ত এই দুটি ঘটনা ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। সম্প্রতি এআইএমআইএম নেতা অকবরুদ্দিন ওয়াইসি তাঁর কুখ্যাত ‘১৫ মিনিট’ জাইবকে পুনরুজ্জীবিত করে সভায় ‘নারা-এ-তাকবীর’ স্লোগান তুলে ভিড়কে উত্তেজিত করেছেন।
এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন যে পুলিশকে ১৫ মিনিটের জন্য সরিয়ে দিলে কী ঘটতে পারে এটি তাঁর ২০১২ সালের সেই বিতর্কিত মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি। সভায় ভিড় উন্মাদনায় ফেটে পড়ে, যা এআইএমআইএম-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ঘোষণা করেছেন যে বিজেপি রাজ্যের ২২টি মুসলিম-প্রধান বিধানসভা আসনে প্রার্থী দেবে না।
শ্যামাসুন্দরী মন্দিরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা! পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামল পুলিশ
এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ‘জাগো’ বলে চিহ্নিত করছেন, কারণ এটি বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।মহারাষ্ট্রে এআইএমআইএম-এর সাফল্য চোখে পড়ার মতো। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মিউনিসিপাল কর্পোরেশন নির্বাচনে দলটি ১২২টি কাউন্সিলর সিট জিতেছে।
এটি দলের জন্য একটি বড় লাভ, বিশেষ করে মুসলিম-প্রধান এলাকায়। অসাদুদ্দিন ওয়াইসির নেতৃত্বাধীন এই দলটি মুসলিম ভোটারদের অধিকার, বিকাশ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। মহারাষ্ট্রে এই জয় বিজেপি-শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেসের মতো প্রধান দলগুলোকে চাপে ফেলেছে। ওয়াইসি ভাইয়েরা বলছেন, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক জাগরণের প্রমাণ।
অকবরুদ্দিনের সাম্প্রতিক সভায় ‘১৫ মিনিট’ মন্তব্যটি এই সাফল্যের আলোকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, মুসলিমরা এখন নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত, এবং ‘নারা-এ-তাকবীর’ স্লোগানে ভিড়ের উত্তেজনা দেখিয়ে দিয়েছে দলের সমর্থন ভিত্তি কতটা শক্তিশালী।অন্যদিকে, অসমে বিজেপির সিদ্ধান্ত অবাক করার মতো। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, ২২টি মুসলিম-প্রধান আসনে বিজেপি প্রার্থী দেবে না, কিন্তু অ্যালায়েন্স পার্টনাররা চাইলে দিতে পারে।
এই আসনগুলোতে মুসলিম ভোটাররা সংখ্যাগরিষ্ঠ, যেমন লখিমপুর, ধুবড়ি, নগাঁও ইত্যাদি। বিজেপির এই কৌশলকে অনেকে ‘পরোক্ষ সাম্প্রদায়িকতা’ বলে চিহ্নিত করছেন। দলটি হিন্দু ভোট একত্রিত করার জন্য এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে, কিন্তু এতে মুসলিম ভোটাররা আরও বিচ্ছিন্ন বোধ করতে পারে। অসমে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘোষণা বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফ বলছে, বিজেপি মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে।
