গেরুয়া রাজ্যে ৯৫ টি আসন জিতে ভীত শক্ত করল মিম

মহারাষ্ট্রের পুর নির্বাচনের ফলাফল গেরুয়া শিবিরকে বিপুল স্বস্তি দিলেও, (AIMIM)রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল মিম। ২০২৬ সালের মহারাষ্ট্র পুরভোটে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট…

aimim-maharashtra-municipal-election

মহারাষ্ট্রের পুর নির্বাচনের ফলাফল গেরুয়া শিবিরকে বিপুল স্বস্তি দিলেও, (AIMIM)রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল মিম। ২০২৬ সালের মহারাষ্ট্র পুরভোটে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট একচেটিয়া দাপট দেখিয়ে অধিকাংশ পুরসভায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।

Advertisements

কিন্তু এই জয়ের মাঝেই যে বিষয়টি গেরুয়া শিবিরকে ভিতরে ভিতরে ভীত ও সতর্ক করে তুলেছে, তা হল আসাদউদ্দিন ওয়াইসির নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (AIMIM) অভূতপূর্ব উত্থান।

   

মহিলা সাংবাদিক-নির্যাতন! গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের নিরাপত্তা কোথায়?

এই নির্বাচনে মিম রাজ্যের ২৯টি পুর নিগমের মধ্যে ১৩টিতেই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। মোট ৯৫টি আসনে জয় পেয়েছে দলটি, যা মহারাষ্ট্রের নগর রাজনীতিতে মিমের ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক। বিশেষ করে মুম্বইয়ের মতো মেগাসিটিতে একাধিক ওয়ার্ডে জয় পেয়ে শক্ত ভিত তৈরি করেছে ওয়াইসির দল।

মুম্বই পুরনিগম নির্বাচনে মিমের পারফরম্যান্স রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চমক সৃষ্টি করেছে। একদিকে বিজেপি-শিবসেনা জোটের দাপট, অন্যদিকে কংগ্রেস ও এনসিপির দুর্বল ফল এই আবহেই মিমের প্রবেশ বহু সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মুম্বইয়ের মানখুর্দ এলাকায় মিমের জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই এলাকা এতদিন সমাজবাদী পার্টির নেতা আবু আজমির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সেখানে মিমের প্রার্থী জয়ী হওয়ায় এসপি-র প্রভাব বড় ধাক্কা খেয়েছে।

ছত্রপতি সম্ভাজিনগর (প্রাক্তন ঔরঙ্গাবাদ) পুরনিগমে মিম দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। এখানে দলটি ২৪টি আসন জিতেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রার্থী বাছাই নিয়ে এই শহরে মিমের অন্দরে একসময় অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই অন্তর্দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও এত বড় সাফল্য রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছে।

মালেগাঁওয়ে মিমের শক্ত ঘাঁটি আরও মজবুত হয়েছে। সেখানে ২০টি আসনে জয় পেয়েছে দলটি। পাশাপাশি সোলাপুর, ধুলে এবং নান্দেড়ে ৮টি করে আসনে জয় এসেছে। অমরাবতীতে ৬টি, থানেতে ৫টি, নাগপুরে ৪টি আসন দখল করেছে মিম। এমনকি চন্দ্রপুর পুরনিগমেও প্রথমবারের মতো নিজেদের খাতা খুলেছে ওয়াইসির দল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির টানা রাজ্যজুড়ে প্রচার, জনসভা ও রোডশো। নির্বাচনী প্রচারের সময় নানা বিতর্ক তৈরি হলেও, শহুরে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে সংগঠিত করতে মিম যে অনেকটাই সফল, তা ফলাফলে স্পষ্ট। শুধু মুসলিম ভোট নয়, কিছু এলাকায় দলটি অন্যান্য সংখ্যালঘু ও বঞ্চিত শ্রেণির সমর্থনও পেয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

এই ফলাফল বিজেপির কাছে দ্বিমুখী বার্তা দিচ্ছে। একদিকে এনডিএ-র নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় থাকলেও, অন্যদিকে শহুরে এলাকায় একটি শক্তিশালী সংখ্যালঘু রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ভবিষ্যতের offering সমীকরণকে জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ২০২৯ সালের লোকসভা ও তার আগের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকালে, মিমের এই উত্থান বিজেপির জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, মহারাষ্ট্রের পুর নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হলেও, ৯৫টি আসনে জয় পেয়ে মিম যে নিজেদের রাজনৈতিক শক্ত ভিত তৈরি করেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। গেরুয়া রাজ্যে এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনে রাজনীতির গতিপথ কতটা বদলায়, সেটাই এখন দেখার।

Advertisements