নয়াদিল্লি: গত ১২ জুন, ২০২৫-এ আহমেদাবাদের (Ahmedabad)সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই-১৭১, একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, টেকঅফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
বিমানটি বিজে মেডিকেল কলেজের হোস্টেল কমপ্লেক্সে আছড়ে পড়ে, যাতে ২৪১ জন যাত্রী-ক্রুসহ মোট ২৬০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এটি ভারতের সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনাগুলির মধ্যে একটি।
বিশ্বকাপে ভ্যেনু বদল বাংলাদেশের? ঢাকা সফরে আইসিসির প্রতিনিধি দল
দুর্ঘটনার পর থেকে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) তদন্ত চালিয়ে আসছে, কিন্তু সেই তদন্ত এখন নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছে।সম্প্রতি এএআইবি মৃত পাইলট-ইন-কমান্ড ক্যাপ্টেন সুমিত সাবরওয়ালের ভাইপো ক্যাপ্টেন বরুণ আনন্দকে তদন্তের জন্য সমন জারি করেছে। বরুণ নিজেও এয়ার ইন্ডিয়ার একজন কমার্শিয়াল পাইলট এবং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস (এফআইপি)-এর সদস্য।
তবে তিনি দুর্ঘটনার দিন বিমানে ছিলেন না, ফ্লাইটের প্ল্যানিং, মেইনটেন্যান্স বা অপারেশনে কোনো ভূমিকা ছিল না। তবু পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণেই তাঁকে ডাকা হয়েছে বলে অভিযোগ। এফআইপি এই সমনের বিরুদ্ধে ১১ জানুয়ারি এএআইবি-কে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে। তারা বলেছে, এটা পরিবারের প্রতি হয়রানি এবং আইসিএও অ্যানেক্স ১৩-এর নিয়ম লঙ্ঘন, যা তদন্তকে শুধুমাত্র টেকনিক্যাল ও সেফটি-ভিত্তিক রাখতে বলে, ব্লেম বা দোষারোপ নিষিদ্ধ করে।
এএআইবি অবশ্য নিজেদের পজিশন স্পষ্ট করেছে। তারা জানিয়েছে, ২০২৫-এর এয়ারক্রাফট (ইনভেস্টিগেশন অফ অ্যাক্সিডেন্টস অ্যান্ড ইনসিডেন্টস) রুলস অনুযায়ী তদন্তকারীরা যেকোনো ব্যক্তিকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন, যাঁকে তারা প্রাসঙ্গিক মনে করেন। তাই তারা যেকোনো সাক্ষীকে ডাকার অধিকার রাখে।
বরুণ আনন্দ অবশ্য আপত্তি সত্ত্বেও ভিডিও কলের মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে উত্তর দেবেন বলে জানা গেছে।কিন্তু প্রশ্ন উঠছে কেন একজন পরিবারের সদস্যকে এভাবে টেনে আনা হচ্ছে, যখন বোয়িংয়ের দিকে তাকানো দরকার? প্রিলিমিনারি রিপোর্টে দেখা গেছে, টেকঅফের পর ইঞ্জিনের ফুয়েল সুইচ কাট-অফ পজিশনে চলে যায়, যার ফলে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়।
ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে এক পাইলটকে অন্যকে জিজ্ঞাসা করতে শোনা গেছে, “কেন ফুয়েল কেটে দিলে?” এই ঘটনা থেকে অনেকে পাইলটের ভুলের দিকে আঙুল তুলছেন। কিন্তু বোয়িং ৭৮৭-এর ইতিহাসে ব্যাটারি ফায়ার, ইলেকট্রিক্যাল ফেলিয়র, সিস্টেম গ্লিচের অভিযোগ বারবার উঠেছে।
হুইসলব্লোয়াররা বলছেন, ইলেকট্রিক্যাল নেটওয়ার্কের সমস্যা, ফল্টি সেন্সর বা এফএডিইসি সিস্টেমের ত্রুটি থেকে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবু তদন্তে বোয়িংকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার পরিবর্তে পাইলটের পরিবারের দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।


