বেতন কমিশনের আগে সুখবর! সাংসদদের বেতন বাড়ল ২৪,০০০ টাকা

অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) প্রতীক্ষার মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য একটি বড় সুখবর নিয়ে এসেছে। লোকসভা ও রাজ্যসভার বর্তমান এবং প্রাক্তন…

8th Pay Commission Govt Hikes Salaries

অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) প্রতীক্ষার মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য একটি বড় সুখবর নিয়ে এসেছে। লোকসভা ও রাজ্যসভার বর্তমান এবং প্রাক্তন সাংসদদের বেতন, ভাতা এবং পেনশনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাংসদদের মাসিক বেতন ২৪,০০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, পেনশন ৬,০০০ টাকা বেড়েছে এবং অতিরিক্ত ভাতা ও পেনশনে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে।

সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “ইনকাম ট্যাক্স আইন, ১৯৬১ (১৯৬১-এর ৪৩ নং আইন)-এর ধারা ৪৮-এর ব্যাখ্যার (V) উপধারার অধীনে মূল্যস্ফীতির সূচকের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার সাংসদ এবং প্রাক্তন সাংসদদের বেতন, দৈনিক ভাতা, পেনশন এবং অতিরিক্ত পেনশন বৃদ্ধির নির্দেশ জারি করেছে।” এই ঘোষণা সাংসদদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সহায়তা করবে।

   

বেতন ও ভাতার নতুন হার
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাংসদদের বেতন ও ভাতায় নিম্নলিখিত পরিবর্তন এসেছে:
বেতন: ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর ১,০০,০০০ টাকা মাসিক বেতন ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২৪,০০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১,২৪,০০০ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
দৈনিক ভাতা: এটি ২,০০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২,৫০০ টাকা হয়েছে।
পেনশন: প্রাক্তন সাংসদদের জন্য পেনশন ২৫,০০০ টাকা থেকে ৬,০০০ টাকা বেড়ে ৩১,০০০ টাকা মাসিক হয়েছে।
অতিরিক্ত পেনশন: পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদের জন্য প্রতি বছরের অতিরিক্ত পেনশন ২,০০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২,৫০০ টাকা হয়েছে।

Advertisements

সংসদের গঠন
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যসভায় সর্বাধিক ২৫০ জন সদস্য থাকতে পারেন। এর মধ্যে ২৩৮ জন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধি এবং ১২ জন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত। রাজ্যসভা একটি স্থায়ী সংস্থা, যা ভেঙে যায় না। প্রতি দুই বছরে এর এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসর নেন এবং নতুন নির্বাচিত সদস্যরা তাদের স্থান পূরণ করেন। প্রতিটি সদস্যের মেয়াদ ছয় বছর। অন্যদিকে, লোকসভায় সর্বাধিক ৫৫০ জন সদস্য থাকতে পারেন, যার মধ্যে ৫৩০ জন রাজ্যের এবং ২০ জন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধি। বর্তমানে লোকসভায় ৫৪৩টি আসন রয়েছে, যা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পূর্ণ।

অষ্টম বেতন কমিশনের প্রত্যাশা
এই বেতন বৃদ্ধি এমন এক সময়ে এসেছে যখন অষ্টম বেতন কমিশনের প্রত্যাশা তুঙ্গে। সরকারি কর্মীদের জন্য এই কমিশনের বাস্তবায়নের প্রত্যাশিত তারিখ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি। ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে প্রতি দশকে একটি করে বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন ও ভাতার সুপারিশ করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি অষ্টম বেতন কমিশনের অনুমোদন দিয়েছেন। ১৯৪৭ সালে প্রথম কমিশন গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত সাতটি বেতন কমিশন কার্যকর হয়েছে। সর্বশেষ সপ্তম বেতন কমিশন ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছিল, যেখানে বেতন ও ভাতায় প্রায় ২৩.৫৫% বৃদ্ধি হয়েছিল।

সাংসদদের জন্য তাৎপর্য
এই বেতন বৃদ্ধি সাংসদদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নতুন বেতন কাঠামো তাদের দায়িত্ব পালনে আরও সহায়তা করবে। পশ্চিমবঙ্গের সাংসদদের জন্যও এটি একটি স্বস্তির খবর। রাজ্য থেকে নির্বাচিত সাংসদরা এই বৃদ্ধির ফলে তাদের নির্বাচনী এলাকায় কাজকর্ম আরও ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।

অষ্টম বেতন কমিশনের সম্ভাবনা
ক্লিয়ারট্যাক্স-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, অষ্টম বেতন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য বেতন কাঠামো, ভাতা এবং পেনশন-সংক্রান্ত সুবিধায় বড় পরিবর্তন আনবে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের কথা মাথায় রেখে এই কমিশন একটি ন্যায্য প্যাকেজ তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েছে। যদিও চূড়ান্ত সুপারিশ এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধি এবং নীতিগত পরিবর্তন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অষ্টম বেতন কমিশন সরকারি কর্মীদের জন্য আরও শক্তিশালী আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। সপ্তম বেতন কমিশনের ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭, যা বেতনকে ২.৫৭ গুণ বাড়িয়েছিল। অষ্টম কমিশনে এই ফ্যাক্টর ২.৮৬-এর কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ন্যূনতম বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে ৫১,৪৮০ টাকায় উন্নীত করতে পারে। সাংসদদের জন্য এই সাম্প্রতিক বৃদ্ধি এই প্রত্যাশাকে আরও জোরদার করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এই খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে সাংসদদের জন্য ন্যায্য পদক্ষেপ বলে মনে করছেন, আবার কেউ বলছেন, সাধারণ সরকারি কর্মীদের জন্যও এমন উদ্যোগ দ্রুত নেওয়া উচিত। একজন বাঙালি সাংসদ বলেন, “এই বৃদ্ধি আমাদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে। তবে অষ্টম বেতন কমিশনের মাধ্যমে সমস্ত সরকারি কর্মীদের জন্যও একইভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হোক, এটাই আমরা চাই।”

সাংসদদের জন্য এই বেতন বৃদ্ধি অষ্টম বেতন কমিশনের আগে একটি ইতিবাচক সংকেত। ২০২৬ সালে এই কমিশন কার্যকর হলে সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা আরও বড় আর্থিক সুবিধা পাবেন। বাঙালি সম্প্রদায়ের জন্য এটি গর্বের বিষয় যে, ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের প্রতিনিধিরা এই সুবিধা পাচ্ছেন। আগামী দিনে অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ কীভাবে সরকারি কর্মীদের জীবনকে প্রভাবিত করে, সেদিকে নজর থাকবে সবার।