ভারত ও বাংলাদেশের কোস্ট গার্ডের যৌথ উদ্যোগে আজ দেশে ফিরছে দুই দেশের মোট ৭৯ জন মৎস্যজীবী। ভারত সরকার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশে আটকে থাকা ৪৭ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় ৩২ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী ফিরছেন নিজ দেশে। দু’দেশের কোস্ট গার্ডের উপস্থিতিতে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সূত্রের খবর, ভারত ও বাংলাদেশের কোস্ট গার্ডের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের হস্তান্তর কার্যক্রম চলছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন যাতে হস্তান্তর সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়। কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরণের উদ্যোগ কেবল মানবিকতার বিষয় নয়, পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় করে।
মৎস্যজীবীরা সাধারণত নদী ও সমুদ্র সীমান্তবর্তী এলাকায় কাজ করেন। অনেকে সীমান্ত অতিক্রমের কারণে বিভিন্ন সময়ে আটক হন। কিন্তু আজকের এই হস্তান্তর প্রমাণ করছে, যথাযথ সমঝোতার মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।
বাংলাদেশে আটকা থাকা ভারতীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘদিন ধরে নিজ দেশে ফিরতে অপেক্ষা করছিলেন। এই হস্তান্তর কার্যক্রমে তারা অবশেষে স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, আটক ভারতীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে কিছু জেলেদের পরিবার ইতিমধ্যেই সীমান্ত এলাকায় অপেক্ষা করছেন, যেন তাদের নিরাপদে গ্রহণ করা যায়। ভারতীয় মৎস্যজীবীরা জানান, সীমান্তবর্তী জলসীমা পেরিয়ে অপরিচিত এলাকায় কাজের সময় কখনও কখনও দুর্ঘটনা বা আইনগত জটিলতায় পড়তে হয়। তবে এই ধরনের হস্তান্তরের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান দ্রুত সম্ভব হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভারত সরকার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের দেশে ফেরানোর। ৩২ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় জলসীমায় আটক ছিলেন। ভারতীয় কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে তাদের নিরাপদভাবে হস্তান্তর করা হবে। বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, “দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা বজায় রাখতে এবং মানবিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন।”
মৎস্যজীবীদের হস্তান্তর কেবল এক মানবিক কার্যক্রম নয়। এটি দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামুদ্রিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার দিকেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর নদী ও সমুদ্র সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটে। তবে দু’দেশের কোস্ট গার্ডের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ এবং সমন্বয় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জন্য এক ধরনের নিরাপত্তা বোধ সৃষ্টি করে। তারা জানেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় সমস্যায় পড়লেও দুই দেশের কোস্ট গার্ড তাদের মানবিক ও নিরাপদভাবে ফিরিয়ে আনবে। এছাড়া এটি ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড কমাতে সাহায্য করবে।
মৎস্যজীবীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল কূটনৈতিক বা প্রশাসনিক বিষয় নয়। এটি তাদের পরিবার, সমাজ ও জীবিকার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আটক থাকা সময় পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগ, আর্থিক চাপ এবং মানসিক চাপ সহ্য করতে হয়েছে। আজকের হস্তান্তরের মাধ্যমে সেই চাপ কিছুটা কমে যাবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেক মৎস্যজীবীর পরিবার সীমান্ত এলাকায় অপেক্ষা করছে, যেন তাদের নিরাপদে গ্রহণ করা যায়।
