
২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লির ভয়াবহ দাঙ্গা সংক্রান্ত মামলায় সোমবার (Delhi Riots)গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ এবং শরজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করলেও একই মামলার পাঁচ সহ-অভিযুক্তকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে থাকা এই মামলার অভিযুক্তদের ভবিষ্যৎ আইনি লড়াইয়ে এই রায় এক নতুন দিক নির্দেশ করল বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানায়, দাঙ্গায় অভিযুক্ত উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের ভূমিকা অন্যদের তুলনায় আলাদা এবং অধিক গুরুতর বলে প্রাথমিকভাবে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। সেই কারণেই তাঁদের ক্ষেত্রে জামিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফা উর রহমান, মোহাম্মদ সেলিম খান ও শাদাব আহমেদের ক্ষেত্রে আদালত ভিন্ন অবস্থান নেয়।
বিষ্ণুপুরে পরিত্যক্ত বাড়িতে আইইডি বিস্ফোরণ, গুরুতর আহত ২
এই পাঁচ অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া হলেও কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাঁরা মামলার সাক্ষীদের সঙ্গে কোনওভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন না, প্রমাণ নষ্ট করতে পারবেন না এবং বিচার প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এমন নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর বিরুদ্ধে চলা টানা আন্দোলন ও উত্তেজনার মধ্যেই এই হিংসা শুরু হয়। কয়েকদিন ধরে চলা দাঙ্গায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় অসংখ্য বাড়িঘর, দোকান ও উপাসনালয়। এই ঘটনার পর দিল্লি পুলিশ দাঙ্গাকে একটি ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’-এর ফল বলে দাবি করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের সময় একাধিক ছাত্র, সমাজকর্মী ও মানবাধিকার কর্মীকে কড়া সন্ত্রাস দমন আইন UAPA-র আওতায় গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র শরজিল ইমাম এবং ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ উমর খালিদ। উমর খালিদকে ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়, অন্যদিকে দাঙ্গা শুরু হওয়ার আগেই, ২৮ জানুয়ারি ২০২০-তে গ্রেফতার হন শরজিল ইমাম।
জামিন শুনানির সময় অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, তদন্তকারী সংস্থা পরিকল্পিতভাবে একে একে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে ‘ষড়যন্ত্র’-এর পরিধি কৃত্রিমভাবে বাড়িয়েছে এবং এর ফলে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে। তাঁরা দাবি করেন, বছরের পর বছর ধরে বিচার শুরু না হওয়ায় অভিযুক্তদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের পক্ষে জানানো হয়, শরজিল ইমামের কিছু ভিডিও বক্তব্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। একটি ভিডিওতে তাঁকে তথাকথিত ‘চিকেন নেক করিডর’ অবরোধের কথা বলতে শোনা যায়, যার মাধ্যমে অসমকে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি পুলিশের। আরেকটি ভিডিওতে দিল্লিকে ‘পঙ্গু’ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে চাকা জ্যাম ও জরুরি পরিষেবা বন্ধ করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
সব দিক বিবেচনা করেই সুপ্রিম কোর্ট এই পৃথক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে পর্যবেক্ষক মহলের মত। যদিও উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিন আপাতত নাকচ হয়েছে, তবে পাঁচ সহ-অভিযুক্তের মুক্তি এই মামলায় আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।










