“১৯৭১-এ পাকিস্তানিরা অধর্ম করেছে”- ভারতীয় সেনা কর্মকর্তার বিস্ফোরক মন্তব্য

ভারতীয় সেনাবাহিনীর পশ্চিমাঞ্চল কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ কুমার কাটিয়ার বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি (Pakistan) সেনাদের দ্বারা বাংলাদেশে সংঘটিত নৃশংসতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও নৈতিকতার চরম…

1971-pakistan-atrocities-adharma-indian-army-officer-manoj-kumar-katiyar

ভারতীয় সেনাবাহিনীর পশ্চিমাঞ্চল কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ কুমার কাটিয়ার বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি (Pakistan) সেনাদের দ্বারা বাংলাদেশে সংঘটিত নৃশংসতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন ছিল। তাঁর দাবি, পাকিস্তানি সৈন্যদের সেই আচরণ ছিল সম্পূর্ণ “অধর্ম”, যা ভারতের যুদ্ধ-হস্তক্ষেপের নৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছিল।

Advertisements

সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হাজার হাজার নারীকে শ্লীলতাহানি ও লাঞ্ছনার মুখে ফেলা হচ্ছিল। ভারত চুপ করে থাকতে পারত না। আমাদের হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হতে হয়েছে।”

   

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা, ধর্ষণ এবং দমন-পীড়নকে তিনি “হলোকাস্টের থেকেও ভয়াবহ” হিসেবে দেখেন। তাঁর বক্তব্য, “বিশ্ববাসী নীরব দর্শক ছিল। কিন্তু প্রতিবেশী হিসেবে ভারত নীরব থাকতে পারত না।”

‘ধর্মযুদ্ধ’ প্রসঙ্গে সেনা কর্মকর্তার ব্যাখ্যা

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে জেনারেল কাটিয়ার বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের প্রতিটি সংঘাত ছিল “ন্যায়সঙ্গত উদ্দেশ্যে পরিচালিত” বা তাঁর ভাষায় ‘ধর্মযুদ্ধ’—অর্থাৎ ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই।

তিনি ১৯৪৮, ১৯৬৫, ১৯৭১ এবং কার্গিল যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, ভারতের ভূমিকা ছিল প্রতিরক্ষামূলক এবং মানবিক। তাঁর কথায়, “অন্যায় দেখেও নীরব থাকা মানে নিজের বিবেককে শাস্তি দেওয়া।”

৯৩ হাজার পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীর প্রসঙ্গ

জেনারেল কাটিয়ার ১৯৭১ যুদ্ধের পরে ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করা ৯৩,০০০ পাকিস্তানি সেনা সদস্যের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ভারত আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে তাঁদের মানবিকভাবে আচরণ করেছে।

তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধবন্দীদের সম্মান দিয়েছি, ধর্মীয় রীতিতে দাফনের ব্যবস্থা করেছি। প্রতিপক্ষের মৃত সৈন্যদেরও সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক অবস্থানের পরিচায়ক।”

এর বিপরীতে তিনি অভিযোগ তোলেন, কার্গিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনা নিজেদের মৃত সৈন্যদের দেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল।

বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা

বর্তমান বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, পরিস্থিতি জটিল হলেও তিনি আশা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তাঁর সতর্কবার্তা—

“ইতিহাস থেকে না শিখলে ইতিহাসই কঠোর মূল্য আদায় করে।”

কেন এই মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ

🔹 ১৯৭১–এর ঘটনাবলিকে ঘিরে ভারত–বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে

🔹 দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূরাজনীতিতে সেনা কর্মকর্তার এই বক্তব্য কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ

🔹 পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও ইতিহাস নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করল এই মন্তব্য

এই মন্তব্যে এখনো পাকিস্তানের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির সমীকরণে এই বক্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দেবে।

Advertisements