Rotary Anna Yojana’ Offering Meals for Just 10 Rupees at Tripura Hospitals
ত্রিপুরার (tripura) মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ড.) মানিক সাহা সোমবার রাজ্য পরিচালিত গোবিন্দ বল্লভ পন্থ GBP হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের আত্মীয়দের জন্য মাত্র ১০ টাকায় খাবার পরিষেবার উদ্বোধন করেছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি এবং রোটারি ক্লাব, একটি দাতব্য সংস্থা, প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ১০০টি খাবার তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। তবে চাহিদা বাড়লে এই পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জিবিপি হাসপাতাল রাজ্যের প্রধান স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। গ্রামাঞ্চল থেকে অনেক মানুষ রোগীদের সঙ্গে এখানে আসেন। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে সমস্যায় পড়তে হয়।”
‘রোটারি অন্ন যোজনা’
এই পরিষেবা, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘রোটারি অন্ন যোজনা’, রোগীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। অনেক সময় দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আগত রোগীর আত্মীয়রা হাসপাতালের আশেপাশে সাশ্রয়ী মূল্যে খাবারের বিকল্প খুঁজে পান না। এই উদ্যোগ তাদের জন্য একটি সহজলভ্য সমাধান হিসেবে কাজ করবে। মুখ্যমন্ত্রী সাহা, যিনি নিজে একজন চিকিৎসক এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন, এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসেন। রোগীদের পাশাপাশি তাদের সঙ্গীদেরও মৌলিক চাহিদা পূরণের দায়িত্ব আমাদের। এই সামান্য ১০ টাকার খাবার তাদের জন্য অনেক সাহায্য করবে।”
এই পরিষেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্যরা, রোটারি ক্লাবের প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। প্রকল্পটির সূচনা হয়েছে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ ক্যান্টিনের মাধ্যমে, যেখানে দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হবে। প্রাথমিকভাবে ১০০টি খাবারের পরিকল্পনা থাকলেও, রোটারি ক্লাবের একজন প্রতিনিধি জানান, “আমরা চাহিদার ওপর নির্ভর করে এই সংখ্যা বাড়াতে প্রস্তুত। আমাদের লক্ষ্য হল কেউ যেন খাবারের অভাবে কষ্ট না পায়।”
জিবিপি (GBP)হাসপাতাল ত্রিপুরার (tripura) স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু
জিবিপি হাসপাতাল ত্রিপুরার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত রোগীদের জন্য প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এখানে সুপার স্পেশালিটি বিভাগ যেমন কার্ডিওলজি, নিউরোলজি, নেফ্রোলজি সহ একাধিক বিশেষায়িত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়। সম্প্রতি এই হাসপাতালে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট পরিষেবাও শুরু হয়েছে, যা রাজ্যের স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন মাইলফলক। এই ধরনের উন্নত চিকিৎসার জন্য দূরদূরান্ত থেকে রোগীরা এখানে আসেন, এবং তাদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবারের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রায়ই অসুবিধা হয়।
আরো দেখুন Operation Brahma: মায়ানমারে ভারতীয় সেনার তৎপরতা জোরদার, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ভারত
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা চাই রোগীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও যেন ন্যূনতম সুবিধা পান। এই পরিষেবা সেই লক্ষ্যে একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” তিনি রোটারি ক্লাব এবং রোগী কল্যাণ সমিতির প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, “এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগ সরকারের সঙ্গে জনগণের সেতুবন্ধন তৈরি করে। আমি আশা করি এই প্রকল্প আরও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়বে।”
রোটারি ক্লাবের একজন সদস্য জানান, খাবারের মান বজায় রাখা হবে এবং স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা শুধু খাবার দেব না, বরং এটি যেন স্বাস্থ্যের দিক থেকে উপযোগী হয়, সেদিকে নজর রাখব।” এই পরিষেবার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি তৈরি করা হয়েছে, যাতে দুপুরের খাবার নির্দিষ্ট সময়ে পাওয়া যায়।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন হাসপাতালে আগত অনেকে। একজন রোগীর সঙ্গী, যিনি উত্তর ত্রিপুরা (tripura) থেকে এসেছেন, বলেন, “আমরা এখানে এসে খাবারের জন্য অনেক টাকা খরচ করি। ১০ টাকায় খাবার পাওয়া আমাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়।” আরেকজন বলেন, “সরকার ও রোটারি ক্লাবের এই পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য অনেক সাহায্য করবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা
মুখ্যমন্ত্রী সাহা রাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ক্রমাগত কাজ করে চলেছেন। তিনি জানান, জিবিপি হাসপাতালে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হবে। এছাড়াও, রাজ্যে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উন্নত করতে একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ত্রিপুরাকে একটি স্বাস্থ্যসেবা হাবে পরিণত করা।”
এই ১০ টাকার খাবার পরিষেবা কেবল একটি আর্থিক স্বস্তি নয়, বরং সরকার ও সমাজের যৌথ প্রচেষ্টার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি দেখায় যে কীভাবে সামান্য উদ্যোগও মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। রোগীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এই পরিষেবা একটি আশার আলো হয়ে উঠেছে, এবং ভবিষ্যতে এটি আরও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।