নয়াদিল্লি, ২৫ মার্চ: মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা এবং আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত তার প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করছে। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য নতুন ক্রুজ মিসাইল (এএলসিএম) ধারণা উপস্থাপন করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কমব্যাট এয়ার টিমিং সিস্টেম (ক্যাটস) প্রোগ্রামের একটি অংশ এবং এটিকে পূর্ববর্তী ক্যাটস হান্টার প্রকল্পের চেয়েও আরও উন্নত বলে মনে করা হয়।
নতুন ALCM ক্ষেপণাস্ত্রটিকে আগের চেয়ে আরও বড় ও শক্তিশালী করে ডিজাইন করা হচ্ছে, যার ফলে এর পাল্লা এবং অস্ত্র বহন ক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর কীলক-আকৃতির সম্মুখভাগ এবং ভাঁজযোগ্য ডানা একে রাডার ফাঁকি দিতে সাহায্য করবে, ফলে এটি অদৃশ্য হয়ে যাবে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি বিশেষভাবে দূর থেকে আঘাত হানার জন্য নকশা করা হচ্ছে, যা যুদ্ধবিমানগুলোকে শত্রুপক্ষের বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে থেকেই আক্রমণ করার সুযোগ দেবে। এতে পাইলট এবং দামী বিমানের নিরাপত্তা বাড়বে।
একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ ক্ষমতা
ক্ষেপণাস্ত্রটির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ ক্ষমতা। ক্ষেপণাস্ত্রটি তেজস এমকে১এ, এসইউ-৩০এমকেআই এবং ভবিষ্যতের ড্রোন সিস্টেম যেমন ক্যাটস ওয়ারিয়র লঞ্চার সহ একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা যেতে পারে। এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ কৌশলকে আরও শক্তিশালী করবে, যেখানে মানুষ ও ড্রোন একই সাথে আক্রমণ চালাতে পারে।
ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ও শক্তি কত?
ক্ষেপণাস্ত্রটির সম্ভাব্য পাল্লা ও শক্তি সম্পর্কে বলতে গেলে, এইচএএল-এর মতে, এএলসিএম এখনও ধারণাগত পর্যায়ে রয়েছে, তাই এর আনুষ্ঠানিক পাল্লা প্রকাশ করা হয়নি। তবে, এর নকশার উপর ভিত্তি করে, এর সম্ভাব্য পাল্লা ৫০০ থেকে ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি বলে অনুমান করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর স্টিলথ নকশা, যা এটিকে রাডার ফাঁকি দিয়ে নিজেরই গভীর অভ্যন্তরে আঘাত হানতে সক্ষম করে।
অত্যন্ত নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা, যার অর্থ হলো এটি বাঙ্কার, বিমানঘাঁটি এবং কমান্ড সেন্টারের মতো লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আক্রমণ করতে পারে। ভাঁজযোগ্য ডানার সাহায্যে এটি দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে, এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক কার্যক্রম একে ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়।
এর নকশা স্টর্ম শ্যাডো এবং টরাস কেপিডি ৩৫০-এর মতো পশ্চিমী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর আদলে তৈরি করা হচ্ছে, যেগুলো দূরপাল্লার ও নির্ভুল আঘাত হানার জন্য পরিচিত।
ভারতীয় সংস্থা এইচএএল-এর এই নতুন এএলসিএম ধারণাটিকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর আক্রমণ ক্ষমতাকে এক নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে ভারতকে দূরপাল্লা থেকে নিরাপদ ও নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম করবে, যদিও এর চূড়ান্ত সক্ষমতা ও প্রয়োগ কেবল পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পরেই স্পষ্ট হবে।




















