নয়াদিল্লি, ৩০ নভেম্বর: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে নতুন দিশা দেখাল সিবিএসই। ২০২৬ সালের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় আসছে ব্যাপক পরিবর্তন যেখানে মুখস্থবিদ্যার বদলে গুরুত্ব দেওয়া হবে বাস্তবধর্মী শিক্ষা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং ধারণাগত বোঝাপড়ায়। এই সংস্কারকে কেন্দ্র করে অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।
শিক্ষা মন্ত্রকের নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020)-র সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিবিএসই জানায়, নতুন পরীক্ষার প্যাটার্ন ছাত্রছাত্রীদের শুধু মুখস্থ না করিয়ে বরং সমস্যা সমাধান, যুক্তি প্রয়োগ এবং তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। বোর্ডের স্পষ্ট বক্তব্য—“শিক্ষা হবে বোঝাপড়ার, পরীক্ষা হবে মেধার প্রয়োগের।”
ইন্ডিয়ান অয়েলে ২৭৫৬টি শূন্যপদে নিয়োগ, এই তারিখের মধ্যে আবেদন করুন
২০২৬ থেকে প্রশ্নপত্রে বড়সড় রদবদল হচ্ছে। নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী ৫০% প্রশ্ন হবে কম্পিটেন্সি-ভিত্তিক অর্থাৎ এমসিকিউ, কেস-বেসড প্রশ্ন, সোর্স-ইন্টিগ্রেটেড প্রশ্ন, ডেটা ইন্টারপ্রিটেশন এবং পরিস্থিতি নির্ভর সমস্যা সমাধান এমন প্রশ্নেই দক্ষতা যাচাই হবে। ২০% প্রশ্ন হবে সিলেক্ট-রেসপন্স (MCQ) ৩০% প্রশ্ন হবে কনস্ট্রাক্টেড-রেসপন্স (শর্ট ও লং উত্তর)
এই পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের বোঝাপড়া, বিশ্লেষণ, প্রয়োগ, যুক্তি—সবকিছুর সম্মিলিত মূল্যায়ন করবে। শিক্ষকরা মনে করছেন, এই পদ্ধতি ছাত্রদের অতিরিক্ত টিউশন নির্ভরতা কমাবে এবং প্রকৃত শিক্ষা অর্জনে উৎসাহ দেবে। NEP 2020 অনুসারে ২০২৬ সাল থেকেই দশম শ্রেণিতে বছরে দু’বার বোর্ড পরীক্ষা নেওয়া হবে। ফলে ছাত্রছাত্রীরা আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে, পরীক্ষার ভয় কমবে ও নিজেদের ভুল শুধরে নিয়ে দ্বিতীয় সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে।
অনেকে বলছেন, এই ব্যবস্থা পশ্চিমা দেশের শিক্ষাপদ্ধতির মতো নমনীয় পরিবেশ তৈরি করবে এবং ফলাফলের চাপও কমাবে। বোর্ড পরীক্ষা শুরু: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রথম দিনের পরীক্ষা ক্লাস ১০ গণিত (স্ট্যান্ডার্ড ও বেসিক) ক্লাস ১২ বায়োটেকনোলজি, এন্টারপ্রেনিউরশিপ, শর্টহ্যান্ড (হিন্দি ও ইংরাজি) পরীক্ষা শেষ ক্লাস ১০: ১০ মার্চ ক্লাস ১২: ৯ এপ্রিল। শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, নতুন প্যাটার্নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বই, সিলেবাস এবং নমুনা প্রশ্নপত্র আগেভাগেই প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষা পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই নয়া পরীক্ষাপদ্ধতির ফলে মুখস্থের চাপ কমবে। বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে, বিশ্বমানের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যতা তৈরি হবে, স্টুডেন্টদের ভবিষ্যৎ কর্মদক্ষতা আরও উন্নত হবে, পরীক্ষার চাপ কমে মানসিক চাপও হ্রাস পাবে অভিভাবকদের একটি বড় অংশ পরিবর্তনকে স্বাগত জানালেও অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, কারণ এই পরীক্ষাপদ্ধতি সফল করতে স্কুলগুলিকে অতিরিক্ত পরিকাঠামো , প্রশিক্ষক এবং সময় প্রয়োজন।
অনেক শিক্ষার্থীই জানাচ্ছে যে, মুখস্থের চাপ কমানো হলে তারা পড়াশোনাকে আরও সহজভাবে গ্রহণ করতে পারবে। বিশেষ করে দুইবার বোর্ড পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগকে তারা ‘রিলিফ’ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছে, কম্পিটেন্সি-ভিত্তিক প্রশ্নপত্রে প্রস্তুত হওয়ার জন্য অতিরিক্ত গাইডলাইন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, সিবিএসই-এর ২০২৬ পরীক্ষার এই বড় সংস্কার ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায় খুলে দিতে চলেছে যেখানে মেধা শুধু নম্বরের নয়, বরং বোঝাপড়া ও প্রয়োগ ক্ষমতার মাপকাঠিতে মূল্যায়িত হবে।
