১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে “বিকশিত ভারত যুব সংসদ”

ভারতের যুব সমাজকে রাজনীতি ও জননীতির সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে আগামী ১ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘বিকশিত ভারত…

viksit-bharat-youth-parliament-to-be-effective-from-april-1

ভারতের যুব সমাজকে রাজনীতি ও জননীতির সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে আগামী ১ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘বিকশিত ভারত যুব সংসদ ২০২৫’ (Viksit Bharat Youth Parliament 2025)। যুব কার্য ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী মনসুখ মান্ডবিয়ার নেতৃত্বে যুব কার্য ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। রবিবার মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই ইভেন্টটি ঐতিহ্যবাহী যুব সংসদের একটি নতুন রূপ। এটি যুবকদের শাসনব্যবস্থা ও জাতি গঠনে অংশগ্রহণের জন্য একটি শক্তিশালী মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে।

   

কোভিড-১৯ মহামারীর পর এই প্রথমবার ৩০০টি জেলা নোডাল রাউন্ড সম্পূর্ণভাবে সশরীরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলে অংশগ্রহণ ও সরাসরি সম্পৃক্ততা অনেক বেড়েছে। প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ৭৫,০০০-এরও বেশি যুবক ‘এমওয়াই ভারত’ পোর্টালের মাধ্যমে তাদের ভিডিও এন্ট্রি জমা দিয়েছেন। এই উৎসাহ ও প্রতিশ্রুতি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের প্রতি তাদের আগ্রহের প্রমাণ। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা শাসনব্যবস্থায় প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারকে তুলে ধরে।

Advertisements

তিন স্তরে গঠিত বিকশিত ভারত যুব সংসদ:

‘বিকশিত ভারত যুব সংসদ ২০২৫’ তিনটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত। প্রথম পর্যায়ে, জেলা নোডাল রাউন্ডে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর বিষয়ে আলোচনা প্রতিটি শহর ও গ্রামে পৌঁছেছে। ৩০০টি জেলা নোডে এই বিস্তৃত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগীরা যোগ্যতা অর্জনের জন্য “আপনার কাছে ভিক্ষিত ভারত মানে কী?” প্রশ্নের উত্তরে এক মিনিটের ভিডিও আপলোড করেছেন।

দ্বিতীয় পর্যায়ে, রাজ্য রাউন্ডগুলো ১৭টিরও বেশি রাজ্য বিধানসভা ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি যুব সমাজ ও শাসনব্যবস্থার মধ্যে দূরত্ব কমানোর ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই সেশনগুলো রাজ্যের স্পিকার ও গভর্নরদের উপস্থিতিতে পরিচালিত হয়েছে, যা যুব আলোচনায় গুরুত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা যোগ করেছে।

তৃতীয় এবং চূড়ান্ত পর্যায়, জাতীয় রাউন্ড, আগামী ১ থেকে ৩ এপ্রিল, ২০২৫ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে শীর্ষ তিনজন প্রার্থী, মোট ১০৮ জন যুব অংশগ্রহণকারী, একত্রিত হবেন। তারা ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ এবং ‘ভিক্ষিত ভারত’ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা ও কার্যক্রমে অংশ নেবেন। এই আলোচনা একটি প্রস্তাবনার মাধ্যমে সমাপ্ত হবে।

একজন সিনিয়র সংসদ সদস্যের পরিচালনায় মাস্টারক্লাসে অংশগ্রহণকারীরা বক্তৃতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জন করবেন। এছাড়াও, তারা লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশনে উপস্থিত থেকে শাসনব্যবস্থার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। পাশাপাশি, তারা প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয় (পিএম সংগ্রহালয়) পরিদর্শন করবেন, যেখানে ভারতের রাজনৈতিক যাত্রা ও নেতৃত্বের গল্প সম্পর্কে জানতে পারবেন।

সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ:

এই অনুষ্ঠান ৩ এপ্রিল একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে। এতে ‘বিকশিত ভারত যুব সংসদ পুরস্কার’ এবং ‘জাতীয় যুব পুরস্কার’ প্রদান করা হবে। এই পুরস্কারগুলো যুবকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হবে।

একটি রূপান্তরকারী আন্দোলন:

মন্ত্রণালয়ের মতে, ‘বিকশিত ভারত যুব সংসদ’ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি একটি রূপান্তরকারী আন্দোলন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উত্থাপিত ধারণা ও আলোচনা কেন্দ্রীয় হলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং যুব নেতৃত্বে পরিচালিত নীতি-নির্ধারণ ও জাতীয় অগ্রগতির একটি নতুন যুগের পথ প্রশস্ত করবে।

যুব শক্তির কণ্ঠস্বর:

এই বছরের ‘বিকশিত ভারত যুব সংসদ’ যুবকদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ। এটি তাদের জাতীয় ও নীতি-নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় কণ্ঠস্বর দেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে গভীর আলোচনার সুযোগ করে দিচ্ছে। কোভিড-১৯-এর পর প্রথমবার জেলা পর্যায়ের রাউন্ডগুলো সশরীরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ৭৫,০০০-এরও বেশি যুবকের অংশগ্রহণ এবং ‘এমওয়াই ভারত’ পোর্টালের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল নির্বাচন প্রক্রিয়া আজকের প্রযুক্তিপ্রিয় ও উৎসাহী যুব সমাজের প্রতিফলন।

দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি:

এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যুবকরা শুধু আলোচনায় অংশ নেবেন না, তারা ভবিষ্যতের ভারত গঠনের ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মতামত শাসনব্যবস্থায় প্রভাব ফেলবে। লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং পিএম সংগ্রহালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে তারা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও নেতৃত্বের গভীরতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

‘বিকশিত ভারত যুব সংসদ ২০২৫’ যুবকদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ তুলে দেওয়ার একটি উদ্যোগ। ১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ইভেন্টটি ক্রিকেট বা বিনোদনের মতো জনপ্রিয়তা না পেলেও, এর গুরুত্ব অপরিসীম। এটি যুব সমাজকে শাসনব্যবস্থার অংশ করে তুলে দেশের উন্নয়নের পথে একটি নতুন দিশা দেখাবে। ৩ এপ্রিল পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে এই আন্দোলনের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হবে, কিন্তু এর প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে ভারতের যুব সমাজের মধ্যে অনুরণিত হবে।