নয়া বাজেটে করদাতাদের জন্য বড় চমক নিয়ে আসছে মোদী সরকার

নয়াদিল্লি: নয়া আর্থিক বছরের শুরুতেই বড় স্বস্তির বার্তা পেতে পারে দেশের মধ্যবিত্ত (Union Budget)। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পেশ হতে চলেছে কেন্দ্রীয় বাজেট আর তার…

union-budget-2026-tax-free-income-17-lakh

নয়াদিল্লি: নয়া আর্থিক বছরের শুরুতেই বড় স্বস্তির বার্তা পেতে পারে দেশের মধ্যবিত্ত (Union Budget)। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পেশ হতে চলেছে কেন্দ্রীয় বাজেট আর তার আগেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে ব্যক্তিগত আয়করে আরও বড় ছাড় দিতে চলেছে মোদী সরকার। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, নতুন কর ব্যবস্থায় কার্যকরভাবে করমুক্ত আয়ের সীমা ১৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

Advertisements

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরই কেন্দ্র সরকার নতুন কর কাঠামোয় বড় সংস্কার এনেছিল। তখন বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়কে করমুক্ত করা হয়, যা মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবীদের কাছে ঐতিহাসিক স্বস্তি হিসেবে ধরা হয়েছিল। এবার সেই সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে বলেই ইঙ্গিত মিলছে বাজেট-পূর্ব আলোচনায়।

   

মুসলিম জনবিন্যাসে বিশ্বে অবাক করা রেকর্ড ভারতের

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি করমুক্ত সীমা না বাড়ালেও বিভিন্ন ছাড় ও ডিডাকশন ফিরিয়ে এনে কার্যত করমুক্ত আয়ের পরিমাণ ১৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হতে পারে। সরকার চাইছে নতুন কর ব্যবস্থাকে আরও জনপ্রিয়, সহজ ও ‘ডিডাকশন-ফ্রেন্ডলি’ করতে।

কী কী পরিবর্তন আসতে পারে নতুন বাজেটে?

বাজেট নিয়ে আলোচনায় যে প্রস্তাবগুলি উঠে আসছে, তার মধ্যে অন্যতম হল স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বর্তমানে যে হারে রয়েছে, তা বাড়িয়ে ১ লক্ষ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা করা হতে পারে। নতুন কর ব্যবস্থায় এতদিন বন্ধ থাকা স্বাস্থ্য বিমা (Section 80D)-এর করছাড় আংশিকভাবে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা। গৃহঋণের সুদ ও আসলের ওপর করছাড় সীমিত আকারে হলেও নতুন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

এমপ্লয়ারের NPS (ন্যাশনাল পেনশন স্কিম)-এ অবদানের উপর করছাড় পুনরায় চালু হওয়ার জল্পনা। উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে সারচার্জের সীমা ৫০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ লক্ষ টাকা করা হতে পারে। এই সব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নতুন কর ব্যবস্থার আকর্ষণ বহুগুণে বাড়বে বলেই মনে করছেন কর বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি বেসিক করমুক্ত আয় ১২ লক্ষ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ~১–১.৫ লক্ষ টাকা স্বাস্থ্য বিমা ও গৃহঋণ সংক্রান্ত ডিডাকশন যোগ হয় তাহলে মোট মিলিয়ে কার্যকর করমুক্ত আয় প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

কেন এই পথে হাঁটছে কেন্দ্র?

পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে প্রায় ৭২ শতাংশ করদাতা নতুন কর ব্যবস্থাকে বেছে নিয়েছেন। সরকার চায় এই ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও সর্বজনগ্রাহ্য করতে। পাশাপাশি, মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে মধ্যবিত্তের হাতে অতিরিক্ত নগদ রাখাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি শুধুমাত্র করছাড় নয়, বরং ব্যক্তিগত কর ব্যবস্থার এক ধরনের কাঠামোগত পুনর্গঠন। এতে সঞ্চয় বাড়বে, ভোগব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে গতি আসবে।

Advertisements