প্রযুক্তিতে চীনকেও পিছনে ফেলছে ভারত

নয়াদিল্লি: ভারতের বিদ্যুতায়ন প্রক্রিয়া চীনের চেয়ে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে, (India)আর একই সঙ্গে মাথাপিছু জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারও কম রাখছে এমন একটা চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক থিঙ্ক…

india-electrification-faster-than-china-ember-report

নয়াদিল্লি: ভারতের বিদ্যুতায়ন প্রক্রিয়া চীনের চেয়ে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে, (India)আর একই সঙ্গে মাথাপিছু জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারও কম রাখছে এমন একটা চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এম্বারের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের মাথাপিছু আয় (পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি অনুসারে প্রায় ১১,০০০ ডলার) এখন চীনের ২০১২ সালের মতো স্তরে পৌঁছেছে। কিন্তু সেই সময় চীন যতটা কয়লা ও তেল ব্যবহার করত, ভারত এখন তার অনেক কম ব্যবহার করছে।

Advertisements

রাস্তার যানবাহনে তেলের মাথাপিছু ব্যবহার চীনের তুলনায় ৬০ শতাংশ কম। এই তথ্য ভারতের উন্নয়নের একটা নতুন মডেলের ইঙ্গিত দিচ্ছে যেখানে সস্তা সবুজ প্রযুক্তির সাহায্যে বিদ্যুতায়ন ঘটছে দ্রুত, আর জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা হচ্ছে।এম্বারের বিশ্লেষক কিংসমিল বন্ড বলছেন, “এটা একটা ঐতিহ্যবাহী ধারণার বিরুদ্ধে যায় যে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পশ্চিম বা চীনের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির পথ ধরে যেতেই হবে।”

   

প্রজাতন্ত্রের আগেই পঞ্জাবে রেললাইন ওড়াল উগ্রপন্থীরা

ভারতের বিদ্যুতায়নের হার প্রায় ২০ শতাংশ, যা চীনের ২০১২ সালের স্তরের সঙ্গে মিলে যায়, কিন্তু এটা প্রতি দশকে প্রায় ৫ শতাংশ করে বাড়ছে। সৌর ও বায়ু শক্তির দাম কমে যাওয়ায় ভারত সবুজ বিদ্যুৎকে দ্রুত গ্রহণ করছে। দেশে বছরে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি হয়, যা অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে। তাই বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে শক্তি স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে ভারত এগোচ্ছে।

অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ভারতের মতো দেশ যেখানে দেশীয় জীবাশ্ম জ্বালানির মজুত কম, সেখানে ‘ইলেক্ট্রোস্টেট’ হয়ে ওঠা সম্ভব যেখানে বেশিরভাগ শক্তির চাহিদা সবুজ বিদ্যুৎ দিয়ে মেটানো যাবে।কিন্তু এই সাফল্যের মাঝেও একটা বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সরকার ভবিষ্যতের চাহিদা ও শক্তি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ২০৪৭ সালের মধ্যে কয়লা-চালিত বিদ্যুৎ ক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে।

বর্তমানে কয়লা ক্ষমতা প্রায় ২২৫ গিগাওয়াটের কাছাকাছি, আর পরিকল্পনা অনুযায়ী এটা ৪২০ গিগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি হলো দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে নির্ভরযোগ্য বেসলোড শক্তির দরকার। কয়লা এখনও ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশের উৎস।

সবুজ শক্তি যতই বাড়ুক, তার অস্থিরতা (যেমন সূর্য না থাকলে বা বাতাস না থাকলে) মেটাতে কয়লার মতো স্থিতিশীল উৎস দরকার।এই পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কও চলছে। একদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, কয়লা বাড়ানো মানে কার্বন নির্গমন বাড়বে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে সরকারের যুক্তি উন্নয়নের গতি বজায় রাখতে হলে শক্তির ঘাটতি হওয়া চলবে না।

ভারতের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে নন-ফসিল ফুয়েল থেকে ৫০০ গিগাওয়াট ক্ষমতা, আর ২০৭০ সালের মধ্যে নেট জিরো। কয়লা বাড়ানোর পরিকল্পনা এই লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু সরকার বলছে, এটা একটা ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা, শক্তি নিরাপত্তার সঙ্গে সবুজ রূপান্তর।

Advertisements