SIP calculator: ভারতীয় বাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে টাকা ঢালছে বিনিয়োগকারীরা। এমনকি ফেব্রুয়ারি মাসে, যখন বাজারে তীব্র সংশোধনের হাওয়া বইছিল, তখনও সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (এসআইপি) এর মাধ্যমে প্রায় ২৬,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে। এর মানে প্রতি ট্রেডিং দিনে গড়ে ১,০০০ কোটি টাকার বেশি। এর পিছনে কারণ খুঁজতে বেশি দূর যেতে হয় না। বিশেষজ্ঞরা বারবার সাধারণ মানুষকে বলেছেন, বাজারে অস্থায়ী পতনের সময় আতঙ্কিত হয়ে বিনিয়োগ তুলে নেওয়া উচিত নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই পতন ক্ষণস্থায়ী হয়।
ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড জগতের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বরা, যেমন মোতিলাল ওসওয়ালের রামদেও আগরওয়াল, কোটাক মাহিন্দ্রা এএমসি-র নীলেশ শাহ, বা আদিত্য বিরলা সান লাইফ এএমসি-র এ. বালাসুব্রমণিয়ন, সকলেই একবাক্যে বলেছেন যে ভারতের উন্নয়নের গল্প আগামী কয়েক বছরে আরও শক্তিশালী হবে। যারা এই গল্পে বিশ্বাস রাখেন, তাদের জন্য ইকুইটি মার্কেটে সাময়িক সংশোধন কোনও বড় বিষয় নয়। বিনিয়োগকারীদের উচিত এই সময়ে ধৈর্য ধরে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া এবং টাকা তুলে নেওয়ার প্রলোভন এড়ানো। আসুন দেখে নিই, কীভাবে মিউচুয়াল ফান্ড এসআইপি আমাদের সম্পদ গড়তে সাহায্য করতে পারে।
গোল-ভিত্তিক এসআইপি ক্যালকুলেটর: আপনার লক্ষ্যের পথপ্রদর্শক
গোল-ভিত্তিক এসআইপি ক্যালকুলেটর একটি দারুণ হাতিয়ার, যা একজন ব্যক্তিকে জানিয়ে দেয় নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে কতটা বিনিয়োগ করতে হবে। ধরা যাক, একজন ২৫ বছর বয়সী ব্যক্তি ৬০ বছর বয়সে ৫ কোটি টাকার একটি রিটায়ারমেন্ট ফান্ড গড়তে চান। আমরা ধরে নিচ্ছি বিনিয়োগের মেয়াদে গড়ে ১২% রিটার্ন পাওয়া যাবে।
যদি এই ব্যক্তি ২৫ বছর বয়স থেকে ৩৫ বছর ধরে নিয়মিত এসআইপি চালিয়ে যান, তাহলে তাকে প্রতি মাসে মাত্র ৭,৭৭৫ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এই হিসেবে ৬০ বছর বয়সে তার ৫ কোটি টাকার লক্ষ্য পূরণ হবে। এই ক্ষেত্রে তার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ (নিজের পকেট থেকে) হবে মাত্র ৩২.০৫ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের শক্তি এবং চক্রবৃদ্ধির জাদুতে এই বিপুল সম্পদ গড়ে ওঠা সম্ভব।
দেরি হলে বাড়বে বিনিয়োগের পরিমাণ
এখন ধরা যাক, একই লক্ষ্য নিয়ে কেউ যদি ৩০ বছর বয়সে এসআইপি শুরু করেন। তাহলে তার বিনিয়োগের মেয়াদ কমে ৩০ বছর হয়ে যাবে। এই ক্ষেত্রে ৫ কোটি টাকার লক্ষ্যে পৌঁছতে প্রতি মাসে ১৪,৩০৬ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। লক্ষ্য করুন, মাত্র ৫ বছর দেরি করার জন্য এসআইপি-র পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এই হিসেবে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫১.৫০ লক্ষ টাকা।
আরও দেরি হলে, যেমন ৩৫ বছর বয়সে শুরু করলে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তখন ৬০ বছরে ৫ কোটি টাকা জমাতে প্রতি মাসে ২৬,৬১২ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে মোট বিনিয়োগ দাঁড়াবে ৭৯.৮৪ লক্ষ টাকা। এই হিসেব থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার—বিনিয়োগ যত তাড়াতাড়ি শুরু করা যায়, ততই লাভ।
কেন তাড়াতাড়ি শুরু করা জরুরি?
বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা সবসময় বলেন, সময়ই বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় শক্তি। যত বেশি সময় হাতে থাকবে, তত বেশি চক্রবৃদ্ধি আপনার টাকাকে বাড়তে সাহায্য করবে। উপরের উদাহরণে দেখা যাচ্ছে, ২৫ বছর বয়সে শুরু করলে মাসে ৭,৭৭৫ টাকা দিয়ে যা সম্ভব, ৩৫ বছরে শুরু করলে তার জন্য তিনগুণেরও বেশি টাকা লাগে। এই পার্থক্যের কারণ হল সময়ের সঙ্গে রিটার্নের চক্রবৃদ্ধি।
ভারতের উন্নয়নে ভরসা রাখুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অর্থনীতি আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। এই প্রবৃদ্ধির সুফল পেতে হলে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে হবে। এসআইপি এমন একটি পথ, যা নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমে বড় স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করে। তবে এর জন্য দরকার ধৈর্য আর শৃঙ্খলা। বাজারের ওঠানামা সত্ত্বেও যারা ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ চালিয়ে যান, তারাই শেষ হাসি হাসবেন।
তাই, আপনি যদি এখনও বিনিয়োগ শুরু না করে থাকেন, তাহলে আর দেরি করবেন না। আজই একটি এসআইপি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে দেখুন, আপনার স্বপ্নের জন্য কতটা বিনিয়োগ প্রয়োজন। সময় আপনার হাতে—এটাকে কাজে লাগান!