যদি আপনার স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (SBI)-তে অ্যাকাউন্ট থাকে এবং নিয়মিত ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা পাঠান, তবে এই খবরটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অন্যতম বৃহত্তম সরকারি ব্যাংক SBI ঘোষণা করেছে যে ৩০ নভেম্বর ২০২৫-এর পর OnlineSBI এবং YONO Lite অ্যাপে mCASH পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, গ্রাহকরা আর মোবাইল নম্বর বা ইমেইল আইডি ব্যবহার করে mCASH-এর মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বা দাবি করতে পারবেন না।
ব্যাংকের তরফে জানানো হয়েছে, mCASH ফিচার বন্ধ হওয়ার পর গ্রাহকদের UPI, IMPS, NEFT, RTGS–এর মতো প্রচলিত ও নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন পদ্ধতি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বর্তমানে UPI-র জনপ্রিয়তা এবং দ্রুত লেনদেনের ক্ষমতা এই ধরনের পরিষেবাগুলিকে আরও এগিয়ে দিয়েছে, যার ফলে mCASH পরিষেবাটি আর প্রয়োজনীয় বলে মনে করছে না SBI।
mCASH কীভাবে কাজ করত?
mCASH ছিল SBI-র একটি পুরোনো ফিচার, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা কোনো উপভোক্তাকে (beneficiary) আগাম রেজিস্টার না করেই কেবল মোবাইল নম্বর বা ইমেইল আইডি ব্যবহার করে টাকা পাঠাতে পারতেন।
এই পরিষেবার কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল—
1. প্রেরক কেবল একটি মোবাইল নম্বর বা ইমেইল আইডি ব্যবহার করেই টাকা পাঠাতে পারতেন।
2. প্রাপক SMS বা ইমেইলের মাধ্যমে একটি সিকিউর লিংক এবং ৮-সংখ্যার পাসকোড পেতেন।
3. লিংক খুলে পাসকোড প্রবেশ করালেই তিনি তাঁর যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা দাবি করতে পারতেন।
4. অ্যাপে লগইন করা যেত MPIN সেট করে।
5. ‘Favorites’ অপশন-এ অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC সেভ করে রাখা যেত।
কেন বন্ধ হচ্ছে SBI mCASH পরিষেবা?
SBI জানিয়েছে, এই পরিষেবাটি বর্তমানে প্রযুক্তির দিক থেকে বেশ পুরোনো হয়ে গেছে এবং আগের মতো আর ব্যবহারও হচ্ছে না। বিশেষত UPI-র বিস্ফোরক জনপ্রিয়তা এবং দ্রুত লেনদেনের সুবিধা mCASH-কে কার্যত অপ্রয়োজনীয় করে তুলেছে। UPI, IMPS-এর মতো পদ্ধতিতে এখন টাকা পাঠানো আরও সহজ, দ্রুত এবং নিরাপদ। তাই, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে SBI এই ফিচারটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গ্রাহকদের করণীয়:
ব্যাংকের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৩০ নভেম্বর ২০২৫-এর পর mCASH (send & claim) ফিচার আর ব্যবহারযোগ্য থাকবে না। তাই গ্রাহকদের UPI, IMPS, NEFT বা RTGS-এর মতো বিকল্প লেনদেন পদ্ধতিতে সরে আসতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল লেনদেনে SBI গ্রাহকদের এই পরিবর্তন কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে ব্যাংকের দাবি, উন্নত প্রযুক্তি এবং নিরাপদ লেনদেন ব্যবস্থার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
