এখন ভাসমান সুদের হারে নেওয়া হাউস লোনের গ্রাহকদের জন্য সুদের হার কমানো আরও সহজ হতে চলেছে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) সম্প্রতি Reserve Bank of India (Interest Rate on Advances) (Amendment Directions), 2025 জারি করেছে, যা ১ অক্টোবর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ ‘কাস্টমার রিটেনশন’ কারণে ব্যাংক চাইলে তিন বছরের আগে–ও গ্রাহকের লোনে আরোপিত স্প্রেড কমাতে পারবে। আগে গ্রাহকের ক্রেডিট প্রোফাইল যতই উন্নত হোক না কেন, তিন বছর পূর্ণ না হলে ব্যাংক স্প্রেড কমাতে পারত না। এই বিধি বাতিল হওয়ায় লক্ষ লক্ষ গৃহঋণ গ্রাহক সরাসরি সুবিধা পাবেন।
কীভাবে উপকৃত হবেন ঋণগ্রাহকরা?
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, যদি কোনও হোম লোন গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর বাড়ে, মাসিক ঋণদায় কমে, বা সামগ্রিক ঝুঁকি প্রোফাইল উন্নত হয়—তাহলে তিনি ব্যাংকে আবেদন করে সুদের হার কমানোর অনুরোধ করতে পারবেন। ব্যাংক তখন গ্রাহকের লোন অ্যাগ্রিমেন্টে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নতুন করে ক্রেডিট অ্যাসেসমেন্ট করবে। সত্যিই যদি উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়, তাহলে ব্যাংক ক্রেডিট রিস্ক প্রিমিয়াম কমিয়ে দেবে—যার ফলে হোম লোনের সুদের হার সরাসরি কমে যাবে। এতে মাসিক EMI কমবে বা লোনের মেয়াদ ছোট হবে।
হোম লোনের সুদের হার কীভাবে নির্ধারণ হয়?
হোম লোন সুদের হার দুই ভাগে বিভক্ত—
1. এক্সটার্নাল বেঞ্চমার্ক রেট (যেমন RBI Repo Rate, 3-month বা 6-month Treasury Bill yield ইত্যাদি)
2. ব্যাংক স্প্রেড—যার মধ্যে ব্যাংকের মার্জিন, অপারেশনাল খরচ এবং গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর অনুযায়ী ঝুঁকি প্রিমিয়াম থাকে।
নতুন RBI নির্দেশিকা মূলত এই ‘স্প্রেড’-এর উপর ছাড় দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
বিদ্যমান গ্রাহকরাও তাত্ক্ষণিক সুফল পাবেন:
আগে তিন বছরের “লক-ইন পিরিয়ড” পূর্ণ না হলে সুদের হার রিসেট করা যেত না। এখন সেই বাধা নেই। যদি কোনও পুরোনো গ্রাহকের ক্রেডিট প্রোফাইল উন্নত হয়, ব্যাংক চাইলে সঙ্গে সঙ্গেই সুদের হার কমাতে পারবে। এতে EMI-র বোঝা কমবে, আবার যারা EMI কমাতে চান না তারা লোনের মেয়াদ কমিয়ে দ্রুত ঋণমুক্ত হতে পারবেন।
কতটা সাশ্রয় হবে?
মাত্র ০.২৫% সুদ কমলেই ২০–২৫ বছরের হোম লোনে হাজার হাজার টাকা সাশ্রয় হয়। যদি EMI অপরিবর্তিত রেখে লোনের মেয়াদ কমানো হয়, তবে সাশ্রয় আরও বেড়ে যায়।
ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর টিপস:
নিয়মিত ও সময়মতো EMI ও ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধ,
আয়ের তুলনায় ক্রেডিট ব্যবহার ৩০%–এর নিচে রাখা,
সিকিউরড ও আনসিকিউরড লোনের সুষম মিশ্রণ,
একসাথে বহু ঋণ বা কার্ডের জন্য আবেদন না করা,
পুরোনো ক্রেডিট কার্ড বন্ধ না করে ‘লাইফটাইম-ফ্রি’তে রূপান্তর করা
কেন এই নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ?
এই পরিবর্তনের ফলে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ভালো ক্রেডিট প্রোফাইল-সম্পন্ন গ্রাহকরা আগের চাইতে অনেক দ্রুত সুদের হার কমানোর সুযোগ পাবেন। এতে তাঁদের লম্বা সময়ের লোন খরচ কমবে এবং অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ঋণমুক্ত হতে পারবেন।
নতুন RBI নির্দেশিকা তাই গৃহঋণ গ্রাহকদের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর।
