
কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল মঙ্গলবার ফিক্কির (FICCI) ৯৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও বার্ষিক সম্মেলনের পর্দা উন্মোচন অনুষ্ঠানে ভারতীয় শিল্পকে সর্বাত্মক সরকারি সমর্থনের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ভারতকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরি, মিলেনিয়াল কর্মশক্তিকে দক্ষ করে তোলা এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ—এই চারটি ক্ষেত্রেই শিল্প খাতকে জোর দিতে হবে।
আর্থিক শৃঙ্খলা, উদ্ভাবন ও শক্তিশালী অবকাঠামো তৈরির প্রতিশ্রুতি:
সভায় মন্ত্রী বলেন, “সরকার আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে দেশের জন্য একটি দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা উদ্ভাবনকে উৎসাহ দিতে গবেষণা ও উন্নয়নের পরিবেশ গড়ে তুলব এবং শিল্পোন্নয়নের জন্য সংযোগ, লজিস্টিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করব।”
তিনি আরও জানান, ভারত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুষম ও কল্যাণকর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) করতে আগ্রহী, যা দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষিত রেখেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি তিনি একটি সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত সরকারের প্রতিশ্রুতি দেন।
ফিক্কির ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ:
পীযূষ গয়াল ফিক্কির উৎপত্তির কথা স্মরণ করে বলেন, মহাত্মা গান্ধীর উৎসাহেই এই সংগঠনের জন্ম। তিনি উল্লেখ করেন, “ফিক্কি কেবল একটি ব্যবসায়িক সংগঠন নয়, এটি ভারতের অর্থনৈতিক আত্মসম্মানের প্রতীক। দেশের শিল্পনীতির বিকাশে আজও ফিক্কির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ভারতের চ্যালেঞ্জ: বেকারত্ব নয়, আন্ডারএমপ্লয়মেন্ট:
মন্ত্রী বলেন, ভারতের বৃহত্তম সমস্যা বেকারত্ব নয়, বরং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব বা আন্ডারএমপ্লয়মেন্ট। বড় ডিগ্রির চেয়ে দক্ষতা উন্নয়নই এই সমস্যার সমাধান আনতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উদ্ভাবন ও পরিবর্তনের আহ্বান:
উদ্যোক্তাদের আরামের জোন থেকে বেরিয়ে এসে নতুন দিক অন্বেষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যদি ছোট হলেও উদ্ভাবন আনে—ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া, প্রযুক্তি বা সেবায়—তাহলে দেশজুড়ে একটি নতুন শিল্পবিপ্লব সৃষ্টি হবে। ফিক্কির ২.৫ লক্ষ সদস্য যদি ছোট ছোট পরিবর্তন করেন, তাহলে সারাদেশে উদ্ভাবনের ঢেউ উঠবে।”
ফিক্কির বার্ষিক সম্মেলন ২০২৫:
ফিক্কির ৯৮তম বার্ষিক সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৫ সালের ২৮-২৯ নভেম্বর, ভরত মন্ডপমে।










