
জরুরি পরিস্থিতিতে হঠাৎ অর্থের প্রয়োজন হলে আমরা প্রায়শই পার্সোনাল লোনের (Personal Loan Tips) দিকে ঝুঁকে পড়ি। আজকাল ব্যাংক, ফিনটেক অ্যাপ এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান সহজেই পার্সোনাল লোন অফার করে। তাই অনেকেই ভেবেচিন্তে না, শুধু সুদের হারের ওপর ভিত্তি করে ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এটি একটি বড় ভুল হতে পারে। কারণ, শুধু সুদের হার দেখে লোন নেওয়া মানেই আপনি সর্বোত্তম চুক্তি পাচ্ছেন এমন নয়।
প্রতিটি ঋণদাতা নিজস্বভাবে উপার্জনের পথ তৈরি করে। অনেক সময় গ্রাহকদের অতিরিক্ত ফি, প্রিপেমেন্ট চার্জ বা লেট ফি আরোপ করা হয়। ফলে, সুদের হার কম থাকলেও শেষ পর্যন্ত আপনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তাই পার্সোনাল লোন নেওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো ভালোভাবে বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
১. কাটছাঁটের পর কত নগদ পাবেন তা বুঝুন
লোনের জন্য আবেদন করার সময় বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত ফি, প্রসেসিং চার্জ, বিমা বা অন্যান্য আড়ি ফি আপনার প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, দুইটি ঋণদাতার EMI এবং সুদের হার একইরকম হলেও, একটি ঋণদাতা লোনের টাকা প্রদানের আগে ফি কেটে নেয়। এর ফলে আপনার অ্যাকাউন্টে আসা টাকা কমে যায়। তাই, লোন নেওয়ার আগে সুদের হার ছাড়াও আপনার হাতে আসা মোট টাকা কত হবে তা ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
২. প্রিপেমেন্ট বা আগাম ফেরতের নিয়ম জেনে নিন
অনেক সময় মানুষ বোনাস, প্রাপ্তি বা এককালীন অর্থ হাতে পেলে লোন একসাথে পরিশোধ করতে চায়। কিন্তু অনেক ঋণদাতা প্রিপেমেন্টের ক্ষেত্রে চার্জ আরোপ করে। এছাড়াও, কিছু ক্ষেত্রে লোনের সাথে লক-ইন পিরিয়ড থাকে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লোন ফেরত দিলে অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। সুতরাং, পরবর্তীতে অপ্রত্যাশিত খরচ এড়াতে লোন নেওয়ার আগে প্রিপেমেন্ট চার্জ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা জরুরি।
৩. জরিমানা ও দেরি ফি সম্পর্কে সচেতন থাকুন
সাধারণত যারা নিয়মমাফিক EMI পরিশোধ করেন, তারা বড় ধরনের কোনো ঝুঁকিতে পড়েন না। কিন্তু কখনো ব্যাঙ্কের ত্রুটি, সার্ভারের সমস্যা বা অন্য কারণে EMI সময়মতো না জমা দেওয়া হলে ঋণদাতারা বড় পরিমাণে জরিমানা আরোপ করতে পারে। এমনকি কখনো ছোট ভুলেও গ্রাহককে অর্থপরিশোধ করতে হয়। তাই, লোন নেওয়ার আগে দেরি ফি এবং অন্যান্য জরিমানা কত হতে পারে তা স্পষ্টভাবে জেনে নিন।
৪. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি
লোনের মেয়াদ: দীর্ঘ মেয়াদের লোনের EMI কম হলেও মোট সুদ অনেক বেশি হতে পারে। তাই আপনার আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী লোনের মেয়াদ ঠিক করুন।
সিকিউরড বনাম আনসিকিউরড লোন: সিকিউরড লোনে সম্পত্তি জড়িত থাকে, আর আনসিকিউরড লোনে কোনো গ্যারান্টি লাগে না। সিকিউরড লোনে সুদের হার কম হয়, তবে ঝুঁকি বেশি।
লোন পুনঃনবায়ন বা রিনিউয়াল চার্জ: কিছু লোনের ক্ষেত্রে পুনঃনবায়ন করলে অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। সর্বোপরি, পার্সোনাল লোন নেওয়ার আগে শুধু সুদের হার নয়, সব প্রক্রিয়াজাত ফি, প্রিপেমেন্ট নিয়ম, জরিমানা, লক-ইন পিরিয়ড এবং লোনের মেয়াদ সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সতর্ক না হলে ছোট লোনও বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই, ঋণ নেওয়ার আগে ভালোভাবে গবেষণা করুন, সমস্ত তথ্য যাচাই করুন এবং নিশ্চিত হন যে আপনি যে লোনটি নিতে যাচ্ছেন তা আপনার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক।
সঠিক প্রস্তুতি ও সচেতনতার মাধ্যমে পার্সোনাল লোন আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে, আর বড় আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি কমে যায়।








