দেশজুড়ে জাতীয় সড়কে ৪-৫% টোল ট্যাক্স বাড়ল

জাতীয় সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েতে যাতায়াতকারীদের এখন থেকে বেশি খরচ বহন করতে হবে। ভারতীয় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) দেশের বিভিন্ন সড়ক বিভাগে টোল চার্জ গড়ে ৪…

Toll Tax to Increase by 5percent, Highway Travel Becomes Expensive Before Election Results

জাতীয় সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েতে যাতায়াতকারীদের এখন থেকে বেশি খরচ বহন করতে হবে। ভারতীয় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) দেশের বিভিন্ন সড়ক বিভাগে টোল চার্জ গড়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল থেকে এই সংশোধিত টোল চার্জ কার্যকর হয়েছে বলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পিটিআই-কে জানিয়েছেন। এই বৃদ্ধি দেশের প্রধান সড়কগুলিতে যাত্রী এবং বাণিজ্যিক যানবাহন চালকদের উপর প্রভাব ফেলবে।

   

এনএইচএআই সমস্ত জাতীয় সড়ক এবং এক্সপ্রেসওয়ের জন্য আলাদাভাবে টোল হার বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। কর্মকর্তার মতে, টোল ফি’তে এই পরিবর্তন বার্ষিক সংশোধনের একটি অংশ, যা পাইকারি মূল্য সূচক (ডব্লিউপিআই)-ভিত্তিক মুদ্রাস্ফীতির পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। প্রতি বছর ১ এপ্রিল থেকে এই সংশোধন কার্যকর করা হয়। জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কে প্রায় ৮৫৫টি ব্যবহারকারী ফি প্লাজা রয়েছে, যেখানে ২০০৮ সালের জাতীয় সড়ক ফি (হার নির্ধারণ এবং সংগ্রহ) নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহারকারী ফি আদায় করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬৭৫টি পাবলিক-ফান্ডেড ফি প্লাজা এবং ১৮০টি কনসেশনেয়ার-পরিচালিত টোল প্লাজা।

Advertisements

বেঙ্গালুরুতে টোল হার বৃদ্ধি

কর্নাটকের প্রধান সড়কগুলিতেও এনএইচএআই ৩ থেকে ৫ শতাংশ টোল হার বৃদ্ধি করেছে। বেঙ্গালুরু টোল হাইক অ্যালার্ট জারি করে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এই বৃদ্ধি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিতে প্রভাব ফেলবে, যার মধ্যে বেঙ্গালুরু-মাইসুরু এক্সপ্রেসওয়ে, বেঙ্গালুরু-হোসুর হাইওয়ে এবং বেঙ্গালুরু-তুমকুর রুট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশোধিত হার অনুযায়ী, হালকা যানবাহনের জন্য টোল চার্জ প্রতি ট্রিপে ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়তে পারে, যেখানে ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, বেঙ্গালুরু-মাইসুরু এক্সপ্রেসওয়েতে একটি গাড়ির একমুখী টোল এখন ১৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০-১৭৫ টাকা হতে পারে। বাস এবং হালকা বাণিজ্যিক যানবাহনের জন্য এটি ২৭৫ টাকার কাছাকাছি এবং ট্রাকের জন্য ৫৮০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই বৃদ্ধি দৈনন্দিন যাতায়াতকারী এবং বাণিজ্যিক পরিবহনের জন্য খরচ বাড়িয়ে দেবে।

দেশজুড়ে প্রভাবিত রুট

সংশোধিত টোল হার দেশের প্রধান রুটগুলিতে প্রভাব ফেলবে। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লি-মিরাট এক্সপ্রেসওয়ে, ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ে এবং দিল্লি-জয়পুর হাইওয়ে। দিল্লি-মিরাট এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি ও জিপের একমুখী টোল ১৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০ টাকা হয়েছে। হালকা বাণিজ্যিক যানবাহন এবং বাসের জন্য এটি ২৭৫ টাকা এবং ট্রাকের জন্য ৫৮০ টাকা। ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ির টোল ১৭০ টাকা থেকে ১৭৫ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যেখানে বাস ও ট্রাকের জন্য এটি যথাক্রমে ২৮০ টাকা এবং ৫৯০ টাকা।

এই বৃদ্ধি শুধু ব্যক্তিগত যানবাহন নয়, পণ্য পরিবহনকারী বাণিজ্যিক যানবাহনের উপরও প্রভাব ফেলবে। সাতটির বেশি অ্যাক্সেলযুক্ত যানবাহনের জন্য টোল বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ৫৯০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এটি পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে পণ্যের দামেও প্রভাব পড়তে পারে।

টোল বৃদ্ধির কারণ ও প্রক্রিয়া

এনএইচএআই-এর মতে, টোল ফি’র এই বার্ষিক সংশোধন মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে করা হয়। পাইকারি মূল্য সূচকের ভিত্তিতে এই হার নির্ধারণ করা হয়, যা সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়া ২০০৮ সালের জাতীয় সড়ক ফি নিয়মের অধীনে পরিচালিত হয়। সাধারণত, এই বৃদ্ধি প্রতি বছর ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়। তবে, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের কারণে এটি স্থগিত করা হয়েছিল এবং পরে জুন মাসে কার্যকর হয়েছিল।

২০২৫ সালে এই বৃদ্ধি সময়মতো কার্যকর হয়েছে। এনএইচএআই-এর একটি সূত্র জানিয়েছে, এই অতিরিক্ত আয় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন প্রকল্প এবং জাতীয় সড়কের গুণমান বজায় রাখতে ব্যবহৃত হবে। দেশে প্রায় ৮৫৫টি টোল প্লাজার মধ্যে ৬৭৫টি সরকারি তহবিলে পরিচালিত এবং ১৮০টি বেসরকারি কনসেশনেয়ারদের দ্বারা পরিচালিত হয়।

যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া

এই টোল বৃদ্ধি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক যাত্রী সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই বৃদ্ধিকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করলেও, নিয়মিত যাতায়াতকারীরা ঘন ঘন বৃদ্ধির জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বেঙ্গালুরুর একজন যাত্রী, রমেশ কুমার বলেন, “প্রতি বছর টোল বাড়ছে, কিন্তু সড়কের অবস্থা সব জায়গায় উন্নত হচ্ছে না। এটা আমাদের পকেটে চাপ ফেলছে।” অন্যদিকে, একজন বাণিজ্যিক ট্রাক চালক, মহম্মদ আলি বলেন, “টোল বাড়লে আমাদের পরিবহন খরচ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রভাব ফেলবে।”

বেঙ্গালুরু ও কর্নাটকের প্রেক্ষাপট

কর্নাটকে টোল বৃদ্ধি রাজ্যের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বেঙ্গালুরু-মাইসুরু এক্সপ্রেসওয়ে এবং বেঙ্গালুরু-হোসুর রুটে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। এই বৃদ্ধি স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের জন্য খরচ বাড়াবে। কর্নাটকের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বেঙ্গালুরুর গুরুত্ব বিবেচনা করলে, এই বৃদ্ধি পণ্য পরিবহনের খরচের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

এনএইচএআই ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক টোল সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবছে। এই ব্যবস্থায় ভ্রমণ করা দূরত্বের ভিত্তিতে টোল আদায় করা হবে, যা বর্তমান টোল প্লাজার ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করতে পারে। এটি সময় এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের সম্ভাবনা তৈরি করবে। তবে, বর্তমানে ফাস্ট্যাগ ব্যবস্থার মাধ্যমে টোল আদায় অব্যাহত থাকবে।

এনএইচএআই-এর টোল চার্জ বৃদ্ধি জাতীয় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি যাত্রী ও বাণিজ্যিক চালকদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। বেঙ্গালুরু সহ দেশের প্রধান রুটগুলিতে এই পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট হবে। যাত্রীদের এখন থেকে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় এই বাড়তি খরচ বিবেচনা করতে হবে।