
দেশজুড়ে উদ্দীপনায় পালিত কৃষক দিবস
২৩ ডিসেম্বর সারা দেশে অত্যন্ত উৎসাহ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়েছে কৃষক দিবস। এই দিনে দেশের অন্নদাতাদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয় এবং অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। সৈনিকদের পাশাপাশি ভারত কৃষকদের দেশ হিসেবেও পরিচিত, কারণ কৃষিই দেশের মূল ভিত্তি।
কৃষকদের কল্যাণে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ:
কৃষকদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একাধিক কল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পগুলির মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, চাষের খরচ কমানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প কৃষকদের জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে।
প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনা:
কেন্দ্র সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প হলো প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনা। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষক পরিবার বছরে মোট ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পান। এই টাকা তিনটি কিস্তিতে, প্রতি চার মাস অন্তর ২,০০০ টাকা করে সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) ব্যবস্থার মাধ্যমে। এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পে ২১টি কিস্তি বিতরণ করা হয়েছে, যা লক্ষ লক্ষ কৃষক পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি।
কিষান ক্রেডিট কার্ড (KCC) প্রকল্প:
কৃষিকাজের জন্য সহজ ঋণের সুবিধা দিতে চালু রয়েছে কিষান ক্রেডিট কার্ড প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা স্বল্প সুদে সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। বীজ, সার, কীটনাশক ও কৃষিযন্ত্র কেনার জন্য এই ঋণ অত্যন্ত সহায়ক। নিকটবর্তী কৃষি দপ্তর বা সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে সহজেই এই কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা:
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা। এই প্রকল্পে অল্প প্রিমিয়ামের বিনিময়ে কৃষকদের ফসল বীমার আওতায় আনা হয়। খরা, বন্যা বা শিলাবৃষ্টির মতো বিপর্যয়ে ফসল নষ্ট হলে কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পান।
মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড প্রকল্প:
মাটির উর্বরতা বজায় রাখতে চালু রয়েছে মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের জমির মাটির স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়া হয়। এতে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের তথ্য ও সঠিক সার ব্যবহারের পরামর্শ থাকে। এর ফলে উৎপাদন বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে মাটির গুণগত মান উন্নত হয়।
শেষ কথা:
সার্বিকভাবে বলা যায়, এই সমস্ত সরকারি প্রকল্প কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করছে। কৃষক দিবসে এই উদ্যোগগুলির গুরুত্ব আরও একবার সামনে এল।










