কিষান কল্যাণ যোজনার ১৪তম কিস্তি জারি, কৃষকরা পেলেন ২,০০০ টাকা

মধ্যপ্রদেশের লক্ষ লক্ষ কৃষকের জন্য এসেছে বড় সুখবর। মুখ্যমন্ত্রী কিষান কল্যাণ যোজনার ১৪তম কিস্তি নিয়ে যে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও উৎকণ্ঠা ছিল, তা এবার শেষ হতে…

MP Kisan Kalyan Yojana

মধ্যপ্রদেশের লক্ষ লক্ষ কৃষকের জন্য এসেছে বড় সুখবর। মুখ্যমন্ত্রী কিষান কল্যাণ যোজনার ১৪তম কিস্তি নিয়ে যে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও উৎকণ্ঠা ছিল, তা এবার শেষ হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধির সাম্প্রতিক কিস্তি ঘোষণার পরেই রাজ্য সরকারও কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত ২,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। জানা যাচ্ছে, ১২ ডিসেম্বর ধার জেলার এক বৃহৎ কৃষক সম্মেলন থেকে এক ক্লিকেই এই অর্থ কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠাতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মোহন যাদব।

Advertisements

মুখ্যমন্ত্রী কিষান কল্যাণ যোজনা অনুযায়ী রাজ্যের যোগ্য কৃষকরা বছরে মোট ৬,০০০ টাকা পান, যা তিনটি সমান কিস্তিতে দেওয়া হয়। ক্রমবর্ধমান চাষের খরচ, বীজ, সার ও শ্রমিকের মজুরি সামলাতে এই সহায়তা কৃষকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শেষ ১৩তম কিস্তি এসেছিল আগস্ট মাসে, তাই স্বাভাবিকভাবেই ডিসেম্বরেই ১৪তম কিস্তি আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

   

কখন এবং কীভাবে টাকা মিলবে:

মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে যেকোনও সময় এই কিস্তির টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে পারে। এমনও শোনা যাচ্ছে যে, ভান্তর যোজনার তৃতীয় কিস্তির সঙ্গেই এই অর্থ পাঠানো হতে পারে। টাকা সরাসরি DBT (ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার) পদ্ধতিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। কৃষকরা mpkisan.gov.in ওয়েবসাইটে আধার নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করে নিজেদের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। এছাড়াও নিকটবর্তী CSC সেন্টার থেকেও তথ্য জানা যাবে। তবে সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, e-KYC আপডেট না থাকলে নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।

যোগ্যতা ও সরকারের কড়া নজর:

এই যোজনার যোগ্যতার শর্ত স্পষ্ট—যাঁদের নামে সর্বোচ্চ ৫ একর পর্যন্ত জমি রয়েছে এবং যাঁরা আয়কর দাতা নন, তাঁরাই এই সহায়তা পাবেন। এটি কেন্দ্রের PM-Kisan যোজনার থেকে আলাদা একটি রাজ্য স্তরের প্রকল্প, যা বিশেষ করে সয়াবিন ও গম চাষি কৃষকদের বাড়তি সহায়তা দেয়। ভুল উপভোক্তা বা ডুপ্লিকেট দাবির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

কৃষকদের প্রত্যাশা ও সরকারের প্রতিশ্রুতি:

কৃষক সংগঠনগুলির মতে, সময়মতো কিস্তি পাওয়া গেলে চাষের প্রতি আস্থা বাড়ে। মুখ্যমন্ত্রী ডা. মোহন যাদব একাধিকবার বলেছেন, কৃষকরাই রাজ্যের মেরুদণ্ড। ভান্তর যোজনা ও লাডলি বেহেনা যোজনার পাশাপাশি এই কল্যাণমূলক প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও মজবুত করবে। যাঁদের নাম তালিকায় নেই, তাঁদের দ্রুত তহসিল বা পঞ্চায়েতে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। ডিসেম্বরের এই সুখবর গ্রামে গ্রামে নতুন উৎসাহের সঞ্চার করেছে—অল্প টাকা হলেও, কৃষকের জন্য তা বড় ভরসা।

Advertisements