
ভারতের শেয়ারবাজারে মঙ্গলবার সূচকের বড় ধস দেখা গেল। দিনের শেষে বেঞ্চমার্ক সূচক সেনসেক্স প্রায় ৩২৫ পয়েন্ট পড়ে বন্ধ হয়েছে ৮৪,৬২৫.৯৯-এ। একইসঙ্গে নিফটি নেমে গেছে ১২০ পয়েন্টের বেশি, দিনের শেষ লেনদেন স্থির হয়েছে ২৫,৮৯২.০৫-এ।
সকালের লেনদেনেও বাজার দুর্বল অবস্থানেই শুরু হয়। সেনসেক্স খোলে ৮৪,৭৬৭.৭৮-এ, যা সোমবারের তুলনায় ১৮৩ পয়েন্ট কম। নিফটি দিনের শুরুতে দাঁড়ায় ২৫,৯৪৩.৬০, প্রায় ৭০ পয়েন্ট কম। প্রথম ঘণ্টা থেকে বিনিয়োগকারীদের চাপ বজায় থাকায় সূচক ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
কেন পড়ল বাজার?
বিশ্ববাজারে ব্যাপক অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারতীয় বাজারে।
এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলো তীব্র পতনে ছিল—
দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি,
জাপানের নিক্কেই ২২৫,
চীনের এসএসই কম্পোজিট,
হংকংয়ের হ্যাং সেং—
সবকটিই লাল সূচকে লেনদেন করছিল।
অন্যদিকে, মার্কিন বাজারও সোমবার গভীর লালতে বন্ধ হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন এই সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্যের জন্য—বিশেষ করে বিলম্বিত সেপ্টেম্বর জবস রিপোর্ট—যা বাজারের মনোভাব নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এই অনিশ্চয়তা ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা কমিয়ে দিয়েছে।
সেক্টরজুড়ে প্রফিট বুকিং: Indian Stock Market Crash
বাজারে পতনের আরেকটি বড় কারণ ছিল বিস্তৃত প্রফিট বুকিং।
এনএসই–র সব সেক্টরাল সূচকই লাল চিহ্নে লেনদেন করেছে।
ব্যাংকিং, আইটি, এফএমসিজি, মেটাল, অটো—সব ক্ষেত্রেই বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ দেখা গেছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের র্যালির পর অনেকেই লাভ তুলে নিচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের মত।
শেষ কথা:
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং দেশীয় বাজারে উচ্চস্তরে প্রফিট বুকিং—এই তিনের জোটেই মঙ্গলবার বড় পতন দেখেছে ভারতীয় ইকুইটি বাজার। আগামী কয়েক দিন ক্রুড অয়েলের দাম, ডলার সূচক এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রবাহ বাজারের দিক নির্ধারণ করবে।




