ভারতের অর্থনৈতিক যাত্রা নতুন একটা মাইলফলকের দিকে এগোচ্ছে (per capita income)। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-র সাম্প্রতিক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের পার ক্যাপিটা আয় $৪,০০০-এ পৌঁছে যাবে। এর ফলে ভারত ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের আপার মিডল ইনকাম দেশের তালিকায় ঢুকে পড়বে, চীন ও ইন্দোনেশিয়ার মতো।
এই খবর দেশের অর্থনীতির জন্য বড় আশার কথা, কারণ বর্তমানে ভারত লোয়ার-মিডল ইনকাম ক্যাটাগরিতে রয়েছে।SBI রিসার্চের গ্রুপ চিফ ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ড. সৌম্য কান্তি ঘোষের নেতৃত্বে তৈরি এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরের চার বছরের মধ্যে (অর্থাৎ ২০৩০-এ) পার ক্যাপিটা GNI $৪,০০০ ছুঁয়ে ফেলবে। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের বর্তমান থ্রেশহোল্ড অনুসারে আপার মিডল ইনকামের জন্য প্রায় $৪,৫০০-এর কাছাকাছি দরকার, আর এই লক্ষ্য অর্জনযোগ্য।
সংখ্যালঘুদের ওপর ৬৪৫টি হামলা, ৭১টি সাম্প্রদায়িক! চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ইউনূস সরকারের
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের পার ক্যাপিটা আয়ের বৃদ্ধির গতি দারুণ ২০০১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত গড়ে ৮.৩% CAGR। এই গতি অব্যাহত থাকলে ২০২৬-এ $৩,০০০, আর ২০৩০-এ $৪,০০০ সহজেই সম্ভব।এই প্রজেকশনের পিছনে রয়েছে ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি।
স্বাধীনতার পর ৬০ বছর লেগেছে $১ ট্রিলিয়ন GDP-তে পৌঁছতে, কিন্তু তারপর থেকে গতি বেড়েছে প্রতি ৭ বছরে $১ ট্রিলিয়ন যোগ হয়েছে। ২০২৫-এ $৪ ট্রিলিয়ন, ২০২৭-২৮-এ $৫ ট্রিলিয়ন, এবং ২০২৮-এ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার সম্ভাবনা।
পার ক্যাপিটা আয়ের যাত্রাও একই রকম ২০০৯-এ $১,০০০, ২০১৯-এ $২,০০০, ২০২৬-এ $৩,০০০। এই অগ্রগতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে ভারতের অর্থনীতি এখন দ্রুততম বর্ধনশীল দেশগুলির মধ্যে শীর্ষে।তবে রিপোর্টে একটা সতর্কতাও রয়েছে। ভবিষ্যতে হাই-ইনকাম থ্রেশহোল্ড বাড়তে পারে। যদি ২০৪৭-এর মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্যে হাই-ইনকাম দেশ হতে হয় এবং থ্রেশহোল্ড $১৩,৯৩৬ থেকে $১৮,০০০-এ উঠে যায়, তাহলে পার ক্যাপিটা GNI-কে ৮.৯% CAGR-এ বাড়াতে হবে।
এটাও সম্ভব, কারণ অতীতে ৮.৩% হয়েছে। নামমাত্র GDP-তে ডলারে ১১.৫% বৃদ্ধি দরকার, যা প্রাক-কোভিড সময়ে (১১%) এবং সাম্প্রতিক বছরগুলিতে (১০%) দেখা গেছে।এই সমীক্ষা দেশবাসীকে আশাবাদী করছে। অনেকে বলছেন, এটা শুধু সংখ্যা নয় এর মানে আরও ভাল জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো।
তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে সংস্কার অব্যাহত রাখা, অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি নিশ্চিত করা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। SBI-র এই রিপোর্ট দেখিয়ে দিচ্ছে যে ভারতের অর্থনৈতিক ইঞ্জিন এখন পুরোদমে চলছে। ২০৩০-এ $৪,০০০ পার ক্যাপিটা ইনকাম মানে একটা নতুন ভারত, যেখানে মধ্যবিত্তের সংখ্যা বাড়বে, দারিদ্র্য কমবে। সময় এসেছে এই গতি ধরে রাখার, যাতে ২০৪৭-এর স্বপ্ন সত্যি হয়।
