সম্প্রতি Business Today ও RBI-এর প্রকাশিত নতুন তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বাস্তব GSDP বৃদ্ধির তালিকা প্রকাশ হয়েছে, যেখানে FY20 থেকে FY25 পর্যন্ত পাঁচ বছরের ধারাবাহিক বৃদ্ধির ভিত্তিতে **শীর্ষ 10 দ্রুত উন্নয়নশীল রাজ্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় অসম প্রথম স্থানে, তারপরে তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড ও তেলেঙ্গানা স্থান পেয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলা এই শীর্ষ 10-এ নেই।
🏆 শীর্ষ 10 রাজ্যের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি
RBI-এর ডেটা অনুযায়ী, অসম রাজ্যের অর্থনীতি FY20 থেকে FY25 মধ্যে 45%-এরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সমস্ত রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। নিবিড় তথ্য অনুযায়ী, অসমের GSDP বেড়েছে প্রায় ₹2.4 লক্ষ কোটি থেকে ₹3.5 লক্ষ কোটি টাকায়।
এছাড়াও অন্য রাজ্যগুলির বৃদ্ধির হার ছিল:
- তামিলনাড়ু: 39%
- কর্ণাটক: 36%
- উত্তরপ্রদেশ: 35%
- রাজস্থান: 34%
- বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশ: 33%
- ছত্তিশগড় ও ঝাড়খণ্ড: 31%
- তেলেঙ্গানা: 30%
এই তালিকায় কর্ণাটক, তামিলনাড়ু ও তেলেঙ্গানা মতো অবিজেপি শাসিত দক্ষিণ ও মধ্য ভারতের রাজ্যগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।
📊 কেন অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে?
এই তালিকায় অনেক অবিজেপি শাসিত রাজ্যের নাম থাকার পেছনে বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক কারণ কাজ করছে:
✔️ তামিলনাড়ু — শিল্প ও উৎপাদনশীলতা
তামিলনাড়ুর দ্রুত উন্নয়নের পেছনে রয়েছে শক্তিশালী উৎপাদন খাত, বিশেষত গাড়ি, ইলেকট্রনিকস, টেক্সটাইল এবং সার্ভিস সেক্টরের অবদান। এই রাজ্যের শিল্প ভিত্তি দীর্ঘদিনে স্থিতিশীল এবং বহু বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে।
✔️ কর্ণাটক — প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ শক্তি
কর্ণাটক, বিশেষত বেনগালুরু, প্রযুক্তি সেবা, স্টার্টআপ ও বায়োটেক ক্যাটাগরিতে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই রাজ্যের আইটি হাবের কারণে রাজ্যের অর্থনীতি গ্লোবাল মানে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
✔️ বিহার ও উত্তরপ্রদেশ — বৃহত্তর বাজার ও অবকাঠামো উন্নয়ন
বৃহত্তর জনসংখ্যা, কৃষি-ভিত্তিক খাতের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ এই রাজ্যগুলিকে দ্রুত উন্নয়নের পথে ধাবিত করেছে।
✔️ ছত্তিশগড় ও ঝাড়খণ্ড — খনিজ ও শক্তি খাত
এই দুই রাজ্য তাদের খনিজ, শক্তি ও ভারী শিল্প গঠনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামগ্রিক GSDP-তে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
🧠 ন্যাশনাল প্রসঙ্গ: কেন্দ্রের ভূমিকা ও বিতর্ক
এই তালিকায় কেন্দ্র শাসিত দলের বাইরে রাজ্যগুলির নাম বেশি হওয়ায় অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে চর্চা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের অভিমত, স্থানীয় প্রশাসনের উন্নয়ন নীতি, প্রাইভেট সেক্টর বিনিয়োগের আকর্ষণ, এবং সিটি-এগ্রো হাবগুলির ভূমিকা এখানে বেশি অবদান রাখছে। আর কিছু মত অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সুবিধা এবং রাজ্যের নিজস্ব কর্মসংস্থান নীতিও উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। বিতর্কের একাংশ এই যে, তবে জিও-রাজনৈতিক সমর্থন এবং উচ্চ প্রযুক্তির শিল্প বিনিয়োগে অসমের মতো রাজ্যও এগিয়ে যাচ্ছে।
📍 বাংলার জায়গা কোথায়?
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ (বাংলা) উল্লেখযোগ্যভাবে এই শীর্ষ 10-এ নেই। যদিও পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক কেন্দ্র এবং রয়েছে ব্যাপক মানবসম্পদ, শিল্প ও কর্মসংস্থান, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে GDP বৃদ্ধির দিক থেকে অন্যান্য রাজ্যগুলির তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে বলে দেখা যাচ্ছে। WB-এর GSDP-র ধারাবাহিকতা এবং বৃদ্ধি-হার পরিস্থিতি এখনও এই শীর্ষ তালিকায় সেরা 10-এ জায়গা তৈরির জন্য যথেষ্ট দ্রুত নয়।
📈 সারসংক্ষেপ
✔️ অসম সর্বোচ্চ ব্যতিক্রমী 45% বৃদ্ধিতে শীর্ষে।
✔️ দক্ষিণ ও মধ্য ভারতের অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির নাম শীর্ষে এসেছে, যেমন তামিলনাড়ু ও কর্ণাটক।
✔️ বাংলার নাম শীর্ষ 10-এ নেই, যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
✔️ রাজ্যগুলির বিভিন্ন অর্থনৈতিক শক্তি — শিল্প, প্রযুক্তি, কৃষি, অবকাঠামো — তালিকায় বৈচিত্র্য এনেছে।
এই উন্নয়নশীল রাজ্যগুলির ভিন্ন ভিন্ন প্রবৃদ্ধির কাহিনী ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্রে একটি বদল এসেই দিয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেবে।
