এবারের অর্থবছরে বহু করদাতা আয়কর রিফান্ডের জন্য অপেক্ষা করছেন। নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিল করা হলেও দীর্ঘদিন রিফান্ড না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছিল। তবে অবশেষে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ডিরেক্ট ট্যাক্সেস (CBDT) আশার বার্তা দিয়েছে—এ বছর যেসব রিফান্ড এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যেই মুক্তি পেতে পারে বলে জানিয়েছেন CBDT চেয়ারম্যান রবি আগরওয়াল।
রিফান্ড বিলম্বের কারণ কী?
CBDT চেয়ারম্যান জানান, কয়েকটি রিফান্ড দাবি সিস্টেমে “হাই-ভ্যালু” ও “রেড-ফ্ল্যাগড” ক্যাটেগরিতে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে কিছু ক্ষেত্রে ভুল বা অযথা ডিডাকশনের দাবি ধরা পড়েছে, যার কারণে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা করদাতাদের চিঠি পাঠিয়েছি। যদি তারা কোনো তথ্য দিতে ভুলে গিয়ে থাকেন, তাহলে রিভাইজড রিটার্ন দাখিল করতে বলা হয়েছে।”
এর ফলে অনেক রিফান্ড প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, যাতে ভুল রিফান্ড ইস্যু না হয় এবং কেবলমাত্র বৈধ দাবিই পরিশোধ করা যায়।
কবে পাওয়া যাবে বাকি রিফান্ড? Income Tax Refund Status
রবি আগরওয়াল জানান, ছোট অঙ্কের রিফান্ড ইতোমধ্যেই ইস্যু হচ্ছে। তবে বড় ও সন্দেহজনক ক্যাটেগরির রিফান্ড যাচাই শেষে নভেম্বর মাসের মধ্যেই বা সর্বোচ্চ ডিসেম্বরের মধ্যে ছাড় করা হবে।
তার ভাষায়, “আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি কিছু ভুল রিফান্ড ও ডিডাকশনের দাবি ছিল। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আশা করছি, বাকি রিফান্ড নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পূর্ণভাবে মুক্তি পাবে।”
রিফান্ডে ‘নেগেটিভ গ্রোথ’ কেন?
CBDT তথ্য অনুযায়ী, এ বছর রিফান্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রায় ১৮% হ্রাস দেখা গেছে। ১ এপ্রিল থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত মোট রিফান্ড প্রদান হয়েছে ২.৪২ লক্ষ কোটি টাকার মতো। আগরওয়াল বলেন, রিফান্ড কমার কারণ হতে পারে—
কম রিফান্ড দাবি,
TDS হার কমে যাওয়া,
ভুল দাবি শনাক্তকরণ বৃদ্ধি।
ট্যাক্স লিটিগেশন কমাতে উদ্যোগ:
CBDT চেয়ারম্যান জানান, সরাসরি করসংক্রান্ত মামলার জট কমাতে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে জমে থাকা আপিলগুলোর নিষ্পত্তিতে এ বছর গত বছরের তুলনায় ৪০% বেশি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। বছরের শেষে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
করদাতাদের জন্য সুখবর, IFFT-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে CBDT প্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে বাকি থাকা বৈধ রিফান্ড ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যেই প্রদান করা হবে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই চলছে, তবুও সরকার রিফান্ড প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছে।
