
ভারতের কর (income tax) ব্যবস্থায় সাধারণ নিয়ম হলো—ব্যক্তি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয়ের উপর আয়কর দিতে হয়। তবে এই নিয়মের একটি বড় ব্যতিক্রম হলো সিকিম। ভারতের একটি মাত্র রাজ্য যেখানে নির্দিষ্ট কিছু নাগরিক সম্পূর্ণভাবে আয়কর মুক্ত থাকার বিশেষ সুবিধা পান। এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে আয়কর আইন, ১৯৬১-এর ধারা ১০(২৬এএএ) এর মাধ্যমে।
সিকিমের বিশেষ মর্যাদার পেছনের ইতিহাস:
১৯৭৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিকিম ভারতের একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্যে পরিণত হয়। ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সময় সিকিমের স্থানীয় জনগণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য ভারতীয় সংসদ এই বিশেষ কর-ছাড়ের বিধান চালু করে। এর ফলে সিকিমের ভূমিপুত্রদের জন্য একটি সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়, যা আজও কার্যকর রয়েছে।
কারা এই আয়কর ছাড় পাবেন?
এই সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। আয়কর আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কেবল নির্দিষ্ট কিছু মানুষই এই কর-ছাড়ের আওতায় পড়বেন।
প্রথমত, যারা ২৬ এপ্রিল ১৯৭৫-এর আগে সিকিমের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নথিভুক্ত ছিলেন।
দ্বিতীয়ত, যাদের কাছে বৈধ ‘সিকিম সাবজেক্ট সার্টিফিকেট’ রয়েছে।
তৃতীয়ত, এই দুই শ্রেণির ব্যক্তিদের উত্তরসূরি বা পরবর্তী প্রজন্ম।
এই গোষ্ঠীর বাইরে থাকা কোনো ব্যক্তি এই বিশেষ আয়কর ছাড়ের সুবিধা দাবি করতে পারবেন না।
সিকিমে বসবাস করলেই কি কর ছাড় মিলবে?
অনেকের ধারণা, ভারতের অন্য রাজ্য থেকে সিকিমে গিয়ে বসবাস শুরু করলে এই কর-ছাড় পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। ১৯৭৫ সালের পর অন্য রাজ্য থেকে সিকিমে গিয়ে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকরা এই আয়কর ছাড়ের যোগ্য নন। শুধুমাত্র সেখানে বসবাস করলেই এই সুবিধা পাওয়া যায় না।
কোন আয়ের উপর কর দিতে হয় না?
যদি কোনো যোগ্য ব্যক্তি সিকিমের ভেতরে ব্যবসা করেন, চাকরি করেন, অথবা সিকিম থেকে লভ্যাংশ ও সিকিউরিটিজের উপর সুদ পান, তাহলে সেই আয়ের উপর কোনো আয়কর দিতে হয় না। তবে যদি ওই ব্যক্তি সিকিমের বাইরে থেকে কোনো আয় করেন, তাহলে সেই আয়ের জন্য তাকে সাধারণ ভারতীয় নাগরিকের মতোই আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
বিনিয়োগ ও স্থায়ী বসবাসের আগে সতর্কতা জরুরি:
এই সাংবিধানিক সুবিধা সিকিমের স্থানীয় জনগণের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে। তবে সিকিমে বিনিয়োগ বা স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করার আগে এই আইনের সূক্ষ্ম দিকগুলো ভালোভাবে বোঝা অত্যন্ত জরুরি। কারণ কর-ছাড়ের সুবিধা সবার জন্য নয়, বরং শুধুমাত্র নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ।










