
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের লক্ষ লক্ষ করদাতার মোবাইল ফোন ও ইমেলে ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের (Income Tax Department ) পাঠানো একাধিক বার্তা পৌঁছেছে। এই বার্তাগুলিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের টাকা জমা, জমি-বাড়ি কেনা বা বিক্রি, শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ, এমনকি অন্যান্য উচ্চমূল্যের খরচের তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। হঠাৎ এই ধরনের মেসেজ পেয়ে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং মনে করেন এটি কোনও ভুয়ো নোটিস বা অনলাইন প্রতারণা হতে পারে। তবে এই বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে আয়কর বিভাগ।
আয়কর বিভাগের স্পষ্টীকরণ:
ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই বার্তাগুলি সম্পূর্ণ সরকারি এবং একেবারেই আসল। এগুলি কোনও স্ক্যাম নয়। তবে এই অ্যাডভাইসরি সব করদাতাকে পাঠানো হয়নি। শুধুমাত্র তাঁদেরই এই বার্তা পাঠানো হয়েছে, যাঁদের ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নে (ITR) দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বিভাগের কাছে থাকা আর্থিক তথ্যের স্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে। অর্থাৎ, যাদের ক্ষেত্রে আয় বা বড় লেনদেন ঠিকভাবে ঘোষণা হয়নি, তারাই এই সতর্কবার্তা পেয়েছেন।
কোথা থেকে পাওয়া হচ্ছে এই তথ্য?
আয়কর বিভাগ জানিয়েছে, তারা এই তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাঙ্ক, মিউচুয়াল ফান্ড হাউস, শেয়ার বাজার সংক্রান্ত সংস্থা, রেজিস্ট্রার এবং অন্যান্য রিপোর্টিং এজেন্সি। এই সব সংস্থা নিয়মিতভাবে উচ্চমূল্যের লেনদেনের তথ্য আয়কর বিভাগকে পাঠায়। যখন এই ডেটার সঙ্গে করদাতার জমা দেওয়া ITR-এর তথ্যের মিল পাওয়া যায় না, তখনই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সতর্ক করা হয়।
ভয় নয়, বরং সাহায্যের বার্তা:
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (আগের টুইটার)-এ আয়কর বিভাগ স্পষ্ট করেছে যে এই ধরনের বার্তার উদ্দেশ্য করদাতাদের ভয় দেখানো নয়। বরং এটি একটি সহায়ক পদক্ষেপ। করদাতারা যাতে সময়মতো নিজেদের নথি ও তথ্য যাচাই করেন এবং প্রয়োজনে ভুল সংশোধন করেন, সেই লক্ষ্যেই এই বার্তা পাঠানো হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে নোটিস, জরিমানা বা আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
AIS-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:
এই পুরো প্রক্রিয়ায় Annual Information Statement (AIS) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। AIS-এ একজন করদাতার সারা বছরের আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ থাকে—যেমন ব্যাঙ্ক ট্রানজ্যাকশন, বিনিয়োগ, বড় অঙ্কের খরচ ইত্যাদি। যদি ITR-এ কোনও আয় বা লেনদেন ঠিকভাবে উল্লেখ না করা হয়, তাহলে AIS-এর মাধ্যমে সেই গরমিল সহজেই ধরা পড়ে। এরপর করদাতাকে কমপ্লায়েন্স পোর্টালের মাধ্যমে ফিডব্যাক দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
কী করবেন করদাতারা?
যদি আপনি এমন কোনও বার্তা পেয়ে থাকেন, তাহলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে incometax.gov.in-এ লগ ইন করুন। সেখানে আপনার AIS ও TIS ভালো করে যাচাই করুন। যদি কোনও তথ্য ভুল থাকে, তাহলে সেই অংশে ফিডব্যাক দিন। আর যদি ভুল আপনার দিক থেকেই হয়ে থাকে, তবে রিভাইজড বা বিলেটেড ITR দাখিল করুন। অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার ২০২৫-২৬-এর জন্য এই সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫। সময়মতো পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যতের বড় ঝামেলা সহজেই এড়ানো সম্ভব।









