HomeBusinessগ্রুপ ডি কর্মচারীদের কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের অধীনে ন্যায্য বেতন ম্যাট্রিক্সের দাবি

গ্রুপ ডি কর্মচারীদের কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের অধীনে ন্যায্য বেতন ম্যাট্রিক্সের দাবি

- Advertisement -

কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রুপ ডি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন কাঠামোর উন্নতির জন্য আন্দোলন করে আসছেন। ৮ম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (8th Central Pay Commission) গঠনের ঘোষণার পর এই দাবি আরও জোরালো হয়েছে। গ্রুপ ডি কর্মচারীরা, যারা সরকারি দপ্তরে সহায়ক, পিয়ন, দারোয়ান, এবং অন্যান্য নিম্ন-স্তরের পদে কর্মরত, তাদের বেতন এবং ভাতার কাঠামোর সংশোধনের জন্য সরব হয়েছেন। এই প্রতিবেদনে আমরা গ্রুপ ডি কর্মচারীদের দাবির পেছনের কারণ, তাদের বর্তমান বেতন কাঠামো, এবং ৮ম বেতন কমিশনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করব।

গ্রুপ ডি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে, কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রুপ ডি কর্মচারীদের বেতন ৭ম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের (৭ম সিপিসি) অধীনে নির্ধারিত হয়। ৭ম সিপিসির সুপারিশ অনুসারে, লেভেল ১-এর অধীনে ন্যূনতম মূল বেতন নির্ধারিত হয়েছে ১৮,০০০ টাকা। এই বেতনে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ), গৃহভাড়া ভাতা (এইচআরএ), এবং পরিবহন ভাতা সহ অন্যান্য সুবিধা যুক্ত হয়, যার ফলে মোট বেতন প্রায় ৩৬,০০০ টাকা হয়। তবে, গ্রুপ ডি কর্মচারীদের দাবি, এই বেতন কাঠামো তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে যথেষ্ট নয়। মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে তুলনা করলে তাদের বেতন অপ্রতুল বলে মনে হয়।

   

৭ম বেতন কমিশনের ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭, যার ফলে ৬ষ্ঠ বেতন কমিশনের ন্যূনতম বেতন ৭,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮,০০০ টাকা হয়। তবে, গ্রুপ ডি কর্মচারীদের মতে, এই বৃদ্ধি পর্যাপ্ত ছিল না। তারা দাবি করছেন যে ৮ম বেতন কমিশনের অধীনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৮৬ বা তার বেশি হওয়া উচিত, যা ন্যূনতম মূল বেতন ৫১,৪৮০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। এই দাবির পেছনে প্রধান কারণ হলো জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ।

কেন গ্রুপ ডি কর্মচারীদের দাবি জোরালো হচ্ছে?
গ্রুপ ডি কর্মচারীরা সরকারি দপ্তরের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করেন। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে পরিচ্ছন্নতা রক্ষণাবেক্ষণ, দপ্তরের সহায়ক কাজ, এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সমর্থন। তবে, তাদের বেতন এবং সামাজিক মর্যাদা অন্যান্য গ্রুপের তুলনায় অনেক কম। গ্রুপ ডি কর্মচারীদের ইউনিয়ন, যেমন ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (এনসি-জেসিএম), দাবি করছে যে তাদের কাজের গুরুত্বের তুলনায় তাদের বেতন অপ্রতুল।

এছাড়াও, বেসরকারি খাতে সমতুল্য কাজের জন্য বেতন অনেক বেশি। উদাহরণস্বরূপ, বেসরকারি সংস্থাগুলিতে একজন সহায়ক বা পরিচ্ছন্নতা কর্মীর বেতন প্রায়শই ২৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা হয়, যেখানে সরকারি গ্রুপ ডি কর্মচারীদের বেতন এর তুলনায় কম। এই বৈষম্য তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
৮ম বেতন কমিশনের ঘোষণার পর গ্রুপ ডি কর্মচারীরা আশা করছেন যে তাদের বেতন কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। তারা দাবি করছেন:

১. ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি: ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫১,৪৮০ টাকা করা।
২. ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বৃদ্ধি: ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫৭ থেকে বাড়িয়ে ২.৮৬ বা তার বেশি করা।
৩. মহার্ঘ ভাতার সংযুক্তিকরণ: বর্তমানে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ৫৫% এ রয়েছে। কর্মচারীরা চান যে এটি মূল বেতনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হোক, যাতে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগের পর বেতন আরও বাড়ে।
৪. অন্যান্য ভাতার সংশোধন: গৃহভাড়া ভাতা (এইচআরএ) এবং পরিবহন ভাতা (টিএ) মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
৫. পেনশন সংস্কার: পেনশন কাঠামোর সংশোধন যাতে অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ডি কর্মচারীরা উন্নত জীবনযাত্রা বজায় রাখতে পারেন।

৮ম বেতন কমিশনের সম্ভাব্য প্রভাব
৮ম বেতন কমিশনের সুপারিশ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগীদের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে। গ্রুপ ডি কর্মচারীদের জন্য, এই কমিশন তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার একটি সুযোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.২৮ থেকে ২.৮৬ এর মধ্যে হতে পারে, যা ন্যূনতম বেতন ৪১,০০০ থেকে ৫১,৪৮০ টাকা পর্যন্ত বাড়াতে পারে। এটি গ্রুপ ডি কর্মচারীদের জন্য ২০-৩৫% বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করবে।

এছাড়াও, মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৭০% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মূল বেতনের সঙ্গে সংযুক্ত হলে বেতন আরও বাড়বে। গৃহভাড়া ভাতা (এইচআরএ) এবং পরিবহন ভাতাও শহরের শ্রেণিবিভাগের উপর ভিত্তি করে সংশোধিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, মেট্রো শহরে এইচআরএ বর্তমানে ২৭%, যা বাড়িয়ে ৩০% করার দাবি উঠেছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব এবং চ্যালেঞ্জ
৮ম বেতন কমিশনের বাস্তবায়ন সরকারের উপর প্রায় ১.৮ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক বোঝা চাপাতে পারে। তবে, এই বেতন বৃদ্ধি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বেতন বৃদ্ধির ফলে কর্মচারীদের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে, যা ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। তবে, সরকারকে এই ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
উপসংহার

 

- Advertisement -
Business Desk
Business Desk
Stay informed about the latest business news and updates from Kolkata and West Bengal on Kolkata 24×7
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular