
জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন (NFSA)-এর আওতায় রেশন গ্রহণকারী (Ration Card ) সকল উপভোক্তার জন্য ই-কেওয়াইসি (e-KYC) বা আধার সিডিং বাধ্যতামূলক করেছে বিহার সরকার। রাজ্যের খাদ্য ও ভোক্তা সুরক্ষা দপ্তর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যের সব রেশন কার্ডধারীকে অবশ্যই ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হল প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের কাছে রেশন পৌঁছে দেওয়া এবং জনবণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা।
বিশেষ অভিযান শুরু সরকারের:
এই লক্ষ্য পূরণে রাজ্য সরকার ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি ফেয়ার প্রাইস শপ বা রেশন দোকানে বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে রেশন কার্ডধারীদের ই-কেওয়াইসি করা হচ্ছে। খাদ্য ও ভোক্তা সুরক্ষা দপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-কেওয়াইসি না করলে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তার রেশন পাওয়ার যোগ্যতা প্রভাবিত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে রেশন পেতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হতে পারে।
রাজ্যের বাইরে থাকা উপভোক্তাদের জন্য সুবিধা:
রাজ্য সরকার আরও জানিয়েছে, যেসব রেশন কার্ডধারী কাজ বা অন্য কোনও কারণে বিহারের বাইরে রয়েছেন, তাঁদের রাজ্যে ফিরে আসার কোনও প্রয়োজন নেই। সারা দেশজুড়ে ই-কেওয়াইসি পরিষেবা চালু রয়েছে। ফলে তাঁরা বর্তমানে যেখানে বসবাস করছেন, সেখানকার নিকটবর্তী ফেয়ার প্রাইস শপ বা জনবণ্টন ব্যবস্থার দোকান থেকেই ই-কেওয়াইসি করাতে পারবেন। এতে পরিযায়ী শ্রমিক ও বাইরে থাকা উপভোক্তারা বড় স্বস্তি পাবেন।
ডেটা যাচাইয়ের কাজ চলছে:
ভারত সরকার যে সন্দেহজনক রেশন কার্ড সংক্রান্ত তথ্য রাজ্যকে দিয়েছে, সেগুলিরও যাচাই চলছে। খাদ্য ও ভোক্তা সুরক্ষা দপ্তর রাজ্যের সমস্ত মহকুমা আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে, তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় সন্দেহজনক তথ্যের শারীরিক যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করতে। এই কাজের জন্যও ১৭ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশেষ ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কীভাবে হয় ই-কেওয়াইসি?
ই-কেওয়াইসি একটি প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়া, যেখানে উপভোক্তার পরিচয় আধার ডেটাবেসে থাকা তথ্যের সঙ্গে বায়োমেট্রিক তথ্য—যেমন আঙুলের ছাপ বা চোখের মণির স্ক্যান—মিলিয়ে যাচাই করা হয়। এর মাধ্যমে ভুয়ো বা অযোগ্য উপভোক্তাদের শনাক্ত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব হবে।
যোগাযোগ ও তথ্য:
ই-কেওয়াইসি সংক্রান্ত যেকোনও তথ্যের জন্য উপভোক্তারা তাঁদের মহকুমা আধিকারিক বা জেলা সরবরাহ আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়াও অভিযোগ বা পরামর্শের জন্য খাদ্য ও ভোক্তা সুরক্ষা দপ্তরের টোল-ফ্রি নম্বর ১৮০০-৩৪৫৬-১৯৪-এ ফোন করা যাবে। সরকারের মতে, এই উদ্যোগ রেশন বণ্টন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।










