অর্থনীতির ওঠাপড়া, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দামের পরিবর্তন, এবং বৈদেশিক পরিস্থিতির প্রভাব—সব মিলিয়ে সোনার দাম প্রায় প্রতিদিনই দোলাচলে থাকে। কখনও একটু কমলে ক্রেতারা মনে সামান্য স্বস্তি পান, আবার পরের দিনই যদি দাম হু-হু করে বেড়ে যায়, তাহলে কপালে ভাঁজ পড়ে সাধারণ মানুষের। ঠিক তেমনই পরিস্থিতি দেখা গেল চলতি সপ্তাহে। সোমবারের পর মঙ্গলবার আবারও দাম বাড়ল ২২ এবং ২৪ ক্যারাট সোনার। বছরের শেষ প্রান্তে এসে ক্রেতাদের এই নজিরবিহীন দামের ওঠানামা শুধু বিভ্রান্তই করছে না, বাজেটেও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
দাম বাড়া-কমার এই খেলায় মূলত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আগামী কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিয়ে বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য সোনা কেনার পরিকল্পনা থাকা ক্রেতারা। অগ্রহায়ণের শেষে যেভাবে বাজারে সোনার দাম দ্রুত বাড়ছে, তা দেখে জুয়েলারি বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা থাকায় আগামী কয়েক দিনে দাম আরও চড়তে পারে। সেই কারণেই বহু মানুষ এখনই দাম স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায়।
এদিকে মঙ্গলবার ৯ ডিসেম্বরের বাজারদর অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন শহরে সোনার দাম আরও এক দফা বেড়েছে। কলকাতা থেকে দিল্লি—সব শহরেই ২২ ক্যারাট ও ২৪ ক্যারাট সোনার দামে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। যারা নিত্যদিনের বাজারদর নজরে রাখেন বা বিনিয়োগ হিসাবে সোনা কেনেন, তাদের জন্য আজকের এই দামের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কলকাতায় সোনার দাম
কলকাতার সোনার বাজারে আজ অর্থাৎ ৯ ডিসেম্বর দাম বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
১০ গ্রাম ২২ ক্যারাট সোনার দাম: ১১,৯৫,৬০ টাকা
১০ গ্রাম ২৪ ক্যারাট সোনার দাম: ১৩,০৪,৩০ টাকা
কলকাতায় গত কয়েকদিন ধরে দামের ওঠাপড়া চললেও আজকের বৃদ্ধিটি তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে ২৪ ক্যারাট সোনার দামে এই বৃদ্ধি আরও স্পষ্ট। সাধারণত কলকাতার বাজারে দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের চাপের কারণে এখানে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। শহরের বড় বড় জুয়েলার্সরা বলছেন, গত এক সপ্তাহে দামের গ্রাফ ক্রমাগত উপরে উঠছে।
দিল্লিতে সোনার দাম
রাজধানী দিল্লিতেও সোনার দাম আজ বেড়েছে।
১০ গ্রাম ২২ ক্যারাট সোনার দাম: ১১,৯৭,১০ টাকা
১০ গ্রাম ২৪ ক্যারাট সোনার দাম: ১৩,০৫,৮০ টাকা
কলকাতার তুলনায় দিল্লিতে সোনার দাম আজ সামান্য বেশি। সাধারণত দিল্লির সোনার বাজার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে বেশ দ্রুত তাল মিলিয়ে চলে, তাই অনেক সময় দাম দ্রুত ওঠানামা করে। আজও সেই প্রবণতারই প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়।
