আজ শনিবার ভারতে সোনার দাম (Gold Price) ক্রমাগত কমছে। আমেরিকার আরোপিত শুল্ক এবং চীনের পাল্টা ৩৪% আমদানি শুল্কের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্র হওয়ায় এই পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মুম্বইয়ে আজ সকালে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ৮৩,৯৯০ টাকা এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৯১,৬৩০ টাকা। একই সঙ্গে রুপোর দামও সকালে ১০০ টাকা কমে প্রতি কিলোগ্রাম ৯৮,৯০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। বিনিয়োগকারীরা অন্যান্য সম্পদ শ্রেণিতে ক্ষতি পোষাতে সোনা বিক্রি করছেন, যা এই পতনের অন্যতম কারণ। আন্তর্জাতিক সোনার বাজারে দাম বর্তমানে প্রতি গ্রাম ৩,১০০ ডলারে রয়েছে, যা ৩ এপ্রিলের ৩,১৬৩ ডলারের তুলনায় কম।
২৪ ক্যারেট সোনা তার অতুলনীয় বিশুদ্ধতার জন্য ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয়। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট সোনা তার স্থায়িত্ব এবং নিরবধি আকর্ষণের জন্য গহনা প্রেমী এবং বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। এটি সৌন্দর্য এবং ব্যবহারিকতার এক অনন্য সমন্বয়।
শহরভিত্তিক সোনার দাম (৫ এপ্রিল ২০২৫)
ভারতের প্রধান শহরগুলিতে আজ সোনার দামের বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হল:
- দিল্লি: ২২ ক্যারেট – ৮৪,১৪০ টাকা, ২৪ ক্যারেট – ৯১,৭৮০ টাকা
- জয়পুর: ২২ ক্যারেট – ৮৪,১৪০ টাকা, ২৪ ক্যারেট – ৯১,৭৮০ টাকা
- আমেদাবাদ: ২২ ক্যারেট – ৮৪,০৪০ টাকা, ২৪ ক্যারেট – ৯১,৬৮০ টাকা
- পাটনা: ২২ ক্যারেট – ৮৪,০৪০ টাকা, ২৪ ক্যারেট – ৯১,৬৮০ টাকা
- মুম্বই: ২২ ক্যারেট – ৮৩,৯৯০ টাকা, ২৪ ক্যারেট – ৯১,৬৩০ টাকা
- হায়দ্রাবাদ: ২২ ক্যারেট – ৮৩,৯৯০ টাকা, ২৪ ক্যারেট – ৯১,৬৩০ টাকা
- চেন্নাই: ২২ ক্যারেট – ৮৩,৯৯০ টাকা, ২৪ ক্যারেট – ৯১,৬৩০ টাকা
- বেঙ্গালুরু: ২২ ক্যারেট – ৮৩,৯৯০ টাকা, ২৪ ক্যারেট – ৯১,৬৩০ টাকা
- কলকাতা: ২২ ক্যারেট – ৮৩,৯৯০ টাকা, ২৪ ক্যারেট – ৯১,৬৩০ টাকা
রুপোর দাম আজ (৫ এপ্রিল ২০২৫)
গুডরিটার্নস ডট ইন-এর তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালে স্পট মার্কেটে রুপোর দাম ১০০ টাকা কমে প্রতি কিলোগ্রাম ৯৮,৯০০ টাকায় পৌঁছেছে। এই পতন বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাবে বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।
ভারতে সোনার দামকে কোন কারণগুলি প্রভাবিত করে?
ভারতে সোনার দাম আন্তর্জাতিক বাজারের হার, আমদানি শুল্ক, কর এবং বিনিময় হারের ওঠানামার দ্বারা প্রভাবিত হয়। এই কারণগুলি একত্রে দেশের দৈনিক সোনার দাম নির্ধারণ করে। ভারতে সোনা শুধু একটি আর্থিক বিনিয়োগ নয়, এটি গভীর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে বিয়ে এবং উৎসবের মতো উদযাপনে সোনার ভূমিকা অপরিহার্য।
বাণিজ্য যুদ্ধ এবং সোনার দাম
আমেরিকা এবং চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ সোনার দামের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। আমেরিকার নতুন শুল্ক নীতির পর চীন ৩৪% আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে, যা বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনার মতো নিরাপদ সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় মনোযোগ দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সোনার দামে পতন অবাক করার মতো নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী দিনে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
কলকাতায় সোনার চাহিদা
পশ্চিমবঙ্গে, বিশেষ করে কলকাতায়, সোনার প্রতি মানুষের আকর্ষণ ঐতিহ্যগত এবং আর্থিক উভয় দিক থেকেই গভীর। বিয়ের মরশুমে এবং দুর্গাপুজোর মতো উৎসবে সোনার গহনার চাহিদা বাড়ে। তবে বর্তমানে দাম কমার কারণে অনেকে কেনার জন্য অপেক্ষা করছেন। স্থানীয় জুয়েলার্সদের মতে, বাজারে অনিশ্চয়তা থাকলেও সোনার প্রতি ভরসা অটুট রয়েছে।
২০২৭ সালে তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা?
বাণিজ্য যুদ্ধের এই পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, আমেরিকা ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা ২০২৭ সালে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে আরও জটিল হতে পারে। তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ইতিমধ্যেই স্পর্শকাতর। বাণিজ্য নীতির এই দ্বন্দ্ব যদি ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নেয়, তবে সোনার দাম আবার বাড়তে পারে। কারণ, সংকটের সময় সোনা বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হয়ে ওঠে। তবে এখনও এটি কেবল একটি সম্ভাবনা, যা বাজারের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ
বর্তমান বাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক থাকা জরুরি। সোনার দামের ওঠানামা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম আরও কমলে কেনার সুযোগ হতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, রুপি-ডলার বিনিময় হার এবং শুল্ক নীতির প্রভাব বিবেচনা করা উচিত।
ডিজিটাল সোনার জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। অনেকে এখন ফিজিক্যাল সোনার পরিবর্তে ডিজিটাল গোল্ডে বিনিয়োগ করছেন, যা সহজে কেনা-বেচা যায় এবং সংরক্ষণের ঝামেলা কম। এছাড়া, সরকারি সোনা বন্ডও একটি বিকল্প হতে পারে।
ভারতের সোনার বাজারে ভবিষ্যৎ
ভারত বিশ্বের বৃহত্তম সোনার আমদানিকারক দেশগুলির মধ্যে একটি। বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাবে আমদানি শুল্ক বাড়লে সোনার দাম আরও ওঠানামা করতে পারে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে সোনা ভারতীয়দের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ থেকে যাবে। বিশেষ করে আর্থিক অনিশ্চয়তার সময় এর গুরুত্ব আরও বাড়ে।
আজ ৫ এপ্রিল ভারতে সোনার দাম কমলেও, এর সাংস্কৃতিক ও আর্থিক মূল্য অপরিবর্তিত। বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে বিনিয়োগকারী এবং ক্রেতাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। কলকাতা থেকে মুম্বই, দিল্লি থেকে চেন্নাই—সর্বত্র সোনার বাজারে নজর রাখা জরুরি। আপনি কি সোনা কিনতে চান? তবে বাজারের প্রবণতা দেখে সিদ্ধান্ত নিন। সোনা শুধু ধাতু নয়, এটি ভারতের ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যতের প্রতীক।