
দীর্ঘদিন ধরেই দেশের লক্ষ লক্ষ EPS -95 পেনশনভোগী ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে মাসিক মাত্র ১,০০০ টাকা পেনশনে জীবনধারণ করা প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির সময়ে কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই কারণেই পেনশনভোগীরা (EPFO) ন্যূনতম পেনশন বাড়ানো, ডিয়ারনেস অ্যালাউয়েন্স (DA) চালু করা, পরিবার পেনশন ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধার দাবি জানিয়ে আসছেন।
সংসদে উঠল EPS পেনশন প্রসঙ্গ:
সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সংসদে আবারও আলোচনায় আসে। লোকসভায় সাংসদরা প্রশ্ন তোলেন—কেন EPS-95-এর ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধি করতে এত দেরি হচ্ছে এবং সুপ্রিম কোর্টের পেনশন নির্ধারণ সংক্রান্ত নির্দেশ কার্যকর করতে সরকার কেন বিলম্ব করছে। এর উত্তরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক তাদের অবস্থান বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে।
বর্তমান EPS পেনশনের অবস্থান:
সরকার জানিয়েছে যে EPS-95 প্রকল্পে ন্যূনতম পেনশন ১,০০০ টাকা মাসিক, যা ২০১৪ সালে কার্যকর হয়। সেই সময় সরকার বাজেট থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দিয়ে নিশ্চিত করেছিল যাতে কোনও পেনশনভোগী এই অঙ্কের কম না পান। তবে বাস্তবতা হল, এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পেনশনের পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে, অথচ জীবনযাত্রার খরচ বহুগুণ বেড়েছে। EPS পেনশন ডিয়ারনেস অ্যালাউয়েন্স বা মূল্যবৃদ্ধির সূচকের সঙ্গে যুক্ত নয় বলেও মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে।
কীভাবে চলে EPS পেনশন তহবিল?
শ্রম মন্ত্রকের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, EPS একটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প যা যৌথ তহবিলের উপর নির্ভরশীল। এই তহবিলে নিয়োগকর্তা কর্মচারীর বেতনের ৮.৩৩ শতাংশ জমা দেন এবং সরকার দেয় অতিরিক্ত ১.১৬ শতাংশ, যা সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা বেতনের সীমার মধ্যে প্রযোজ্য। এই তহবিল থেকেই পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করা হয়।
তহবিল ঘাটতি ও DA প্রসঙ্গ:
সরকার স্বীকার করেছে যে EPS তহবিলে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ঘাটতি রয়েছে। ৩১ মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান তহবিল কাঠামোয় বড় অঙ্কে পেনশন বৃদ্ধি বা ডিয়ারনেস অ্যালাউয়েন্স দেওয়া সম্ভব নয়। এই বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি DA সংযুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কার্যকর করা আর্থিকভাবে অসম্ভব।
ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা:
সরকার এখনো EPS-95-এর ন্যূনতম পেনশন ৭,৫০০ টাকা করা, DA চালু করা বা চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। ফলে লক্ষ লক্ষ EPS-95 পেনশনভোগীর অপেক্ষা অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।





