বেতনভোগী কর্মীদের জন্য কর্মচারী ভবিষ্যনিধি (EPF) দীর্ঘদিন ধরেই একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সঞ্চয় হিসেবে বিবেচিত। প্রতি মাসে বেতন থেকে কাটা এই অর্থ ভবিষ্যতে অবসরকালীন জীবনে বড় সহায় হয়ে দাঁড়ায়। তবে দীর্ঘদিন EPF অ্যাকাউন্টে কোনও লেনদেন না হলে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আপডেট না থাকলে সেই জমাকৃত অর্থই ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)।
কী হল ইনঅপারেটিভ EPF অ্যাকাউন্ট?
দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ EPF অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেগুলিতে বহু বছর ধরে কোনও ধরনের লেনদেন হয়নি। চাকরি পরিবর্তনের পর পুরনো অ্যাকাউন্ট ভুলে যাওয়া, তথ্য আপডেট না করা কিংবা অবহেলার কারণেই মূলত এই অ্যাকাউন্টগুলি ইনঅপারেটিভ বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। যদিও এই অ্যাকাউন্টে জমা টাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে, তবে সঠিক পরিচয় ও নথি না থাকলে টাকা তোলা বা দাবি জানানো অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে।
মিশন মোডে শুরু হবে KYC যাচাই:
কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়া জানিয়েছেন, এই নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলিকে সচল করতে EPFO এবার “মিশন মোড”-এ কাজ শুরু করবে। এর আওতায় অ্যাকাউন্টধারীদের KYC (Know Your Customer) যাচাই করা হবে। এই প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করতে একটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সহজেই ডরম্যান্ট বা নিষ্ক্রিয় EPF অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
নমিনি চিহ্নিত করাও অগ্রাধিকার:
এই উদ্যোগে শুধুমাত্র অ্যাকাউন্টধারীদের নয়, তাঁদের মনোনীত নমিনিদের তথ্য যাচাই করাও বিশেষ গুরুত্ব পাবে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যু হলে বা তিনি অনুপস্থিত থাকলে, নমিনি সংক্রান্ত তথ্য অসম্পূর্ণ থাকার কারণে টাকা তুলতে দীর্ঘদিন আটকে থাকে। নতুন ব্যবস্থায় সঠিক নমিনিকে দ্রুত ও নিরাপদে অর্থ হস্তান্তরের পথ সুগম করা হবে।
বিদেশে কর্মরত ভারতীয়রাও উপকৃত হবেন:
মন্ত্রী মান্ডাভিয়া আরও জানান, ভারত এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তিতে বিশেষ ধারা যুক্ত করছে। এর ফলে বিদেশে কর্মরত ভারতীয় কর্মীরা দেশে ফিরে এলে তাঁদের বিদেশে জমা হওয়া PF বা সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল নষ্ট হবে না এবং সেই সুবিধা ভারতের মধ্যেই পাওয়া যাবে।
সম্পূর্ণ ডিজিটাল হবে EPFO অফিস:
EPFO এখন আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সমস্ত অফিসকে পুরোপুরি ডিজিটাল ও পরস্পর সংযুক্ত করার কাজ শুরু করেছে। দিল্লিতে এই ব্যবস্থার ট্রায়াল ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এর ফলে সদস্যদের আর বারবার আঞ্চলিক অফিসে যেতে হবে না। অভিযোগ, দাবি ও অন্যান্য পরিষেবা অনলাইনের মাধ্যমেই সহজে সম্পন্ন করা যাবে। এই পদক্ষেপ EPF সদস্যদের জন্য বড় স্বস্তি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
