EPFO সদস্যদের জন্য সুখবর! এখন পিএফ অগ্রিম তোলার সীমা ৫ লাখ

ভারতের ৭.৫ কোটিরও বেশি প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF Withdrawal) সদস্যদের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করতে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটি অটো সেটলমেন্ট…

epf-crorepati-with-10000-pay-calculation

ভারতের ৭.৫ কোটিরও বেশি প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF Withdrawal) সদস্যদের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করতে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটি অটো সেটলমেন্ট অফ অ্যাডভান্স ক্লেমস (এএসএসি)-এর সীমা ১ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এই প্রস্তাব শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব সুমিতা দাওরার অনুমোদন পেয়েছে এবং গত ২৮ মার্চ শ্রীনগরে অনুষ্ঠিত সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ (সিবিটি)-এর ১১৩তম নির্বাহী কমিটির (ইসি) বৈঠকে আলোচিত হয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সূত্র অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত সদস্যদের আর্থিক সুবিধা ও দ্রুত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।

   

৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অটো সেটলমেন্ট

সিবিটি-র চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ইপিএফও সদস্যরা এএসএসি-র মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তাদের পিএফ থেকে তুলতে পারবেন। এই ব্যবস্থা প্রথম চালু হয়েছিল ২০২০ সালের এপ্রিলে, যখন চিকিৎসা জরুরি অবস্থার জন্য ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুবিধা দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে এই সীমা বাড়িয়ে ১ লক্ষ টাকা করা হয়। এখন ইপিএফও এই সুবিধা শিক্ষা, বিবাহ এবং গৃহ নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর জন্যও প্রসারিত করেছে। পূর্বে এই অটো সেটলমেন্ট শুধুমাত্র চিকিৎসা জরুরি অবস্থা এবং হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল। এই সিস্টেমের মাধ্যমে দাবিগুলো তিন দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়, যা সদস্যদের জন্য একটি দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করে।

Advertisements

অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ মার্চ পর্যন্ত ইপিএফও রেকর্ড ২.১৬ কোটি অটো ক্লেম প্রক্রিয়া করেছে। ২০২৩-২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮৯.৫২ লক্ষ। এছাড়া, দাবি প্রত্যাখ্যানের হার গত বছরের ৫০ শতাংশ থেকে কমে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। এই উন্নতি ইপিএফও-র প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সদস্যদের প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে।

যাচাই প্রক্রিয়ার সরলীকরণ

পিএফ উত্তোলন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে ইপিএফও যাচাইয়ের ধাপগুলো ২৭ থেকে কমিয়ে ১৮-তে নিয়ে এসেছে। পরিকল্পনা রয়েছে এটি আরও কমিয়ে মাত্র ৬ ধাপে নিয়ে আসার। এই অটো সেটলমেন্ট ব্যবস্থা একটি উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত হয়, যা মানুষের হস্তক্ষেপকে সর্বনিম্নে নামিয়ে আনে। যে সমস্ত দাবিতে ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ (কেওয়াইসি) বিবরণ, যোগ্যতা এবং ব্যাঙ্ক যাচাই সম্পন্ন থাকে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রক্রিয়া করা হয়। ফলে, দাবি নিষ্পত্তির সময় ১০ দিন থেকে কমে ৩-৪ দিনে নেমে এসেছে। এই দ্রুততা সদস্যদের জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে সহায়তা করছে।

ইউপিআই-এর মাধ্যমে পিএফ উত্তোলন

একটি বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে, ইপিএফও ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই)-এর মাধ্যমে পিএফ উত্তোলনের একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব সুমিতা দাওরা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই)-এর সুপারিশ শ্রম মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে। এই বছরের মে বা জুন মাসের মধ্যে সদস্যরা ইউপিআই বা এটিএম-এর মাধ্যমে তাদের পিএফ তুলতে পারবেন। এই উদ্যোগ জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ) এবং পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিপিএফ)-এর মতো অন্যান্য স্কিমের জন্যও একটি পথ প্রশস্ত করতে পারে।

সদস্যদের জন্য সুবিধা

ইপিএফও-র এই সিদ্ধান্ত সদস্যদের জন্য একটি বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে। পিএফ থেকে টাকা তোলার জন্য পূর্বে দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং কাগজপত্রের প্রয়োজন হতো, যা জরুরি প্রয়োজনের সময় বাধা হয়ে দাঁড়াত। এখন ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অটো সেটলমেন্টের সুবিধা সদস্যদের বড় অঙ্কের টাকা দ্রুত তুলতে সাহায্য করবে। শিক্ষা, বিবাহ এবং গৃহ নির্মাণের মতো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

ইউপিআই-এর মাধ্যমে উত্তোলন চালু হলে সদস্যরা তাদের পিএফ থেকে টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বা ডিজিটাল ওয়ালেটে পেতে পারবেন। এটি সময় বাঁচানোর পাশাপাশি প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব করে তুলবে। এই পদক্ষেপ ডিজিটাল ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আর্থিক লেনদেনে প্রযুক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করবে।

ইপিএফও-র দক্ষতা বৃদ্ধি

ইপিএফও-র সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে সংস্থাটি তার সেবার মান উন্নত করেছে। ২.১৬ কোটি অটো ক্লেম প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রত্যাখ্যানের হার ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা এর সুস্পষ্ট উদাহরণ। আইটি সিস্টেমের আধুনিকীকরণ এবং যাচাই প্রক্রিয়ার সরলীকরণ সদস্যদের জন্য দাবি নিষ্পত্তিকে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করেছে। শ্রীনগরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সেন্ট্রাল প্রভিডেন্ট ফান্ড কমিশনার উপস্থিত ছিলেন এবং এই পরিবর্তনের সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

সমাজে প্রভাব

এই পরিবর্তন শ্রমশক্তির জন্য একটি গেম-চেঞ্জার হতে পারে। পিএফ অনেক কর্মচারীর জন্য অবসরকালীন সঞ্চয়ের প্রধান উৎস। জরুরি প্রয়োজনে এই তহবিলে সহজ প্রবেশাধিকার সদস্যদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে। ইউপিআই-এর সংযোজন এই ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ জিপিএফ এবং পিপিএফ-এর মতো অন্যান্য স্কিমের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি ভারতের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ইপিএফও-র এই সিদ্ধান্ত সদস্যদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অটো সেটলমেন্ট এবং ইউপিআই-এর মাধ্যমে উত্তোলনের সুবিধা পিএফ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ এবং আধুনিক করে তুলবে। এটি কেবল আর্থিক সুবিধা নয়, প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নত করার একটি প্রচেষ্টা। সদস্যরা তাদের সঞ্চয়ে দ্রুত প্রবেশাধিকার পেয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে আরও সুরক্ষিত থাকবেন।