নয়াদিল্লি: আপনি কি নতুন বছরে একটি স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ কেনার কথা ভাবছেন? তবে আপনার জন্য একটি বড় দুঃসংবাদ রয়েছে কারণ আগামী দুই মাসের মধ্যে কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম আরও ৪ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে চলেছে। গত নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসেই এই ধরণের পণ্যের দাম প্রায় ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল তবে মেমরি চিপের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে কোম্পানিগুলো আবারও দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা সাধারণ ক্রেতাদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
কেন এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে এই দাম বাড়ার প্রধান কারণ হল বিশ্ববাজারে মেমরি চিপের তীব্র সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে সেমিকন্ডাক্টরের অভাব দেখা দিয়েছে। মার্কেট ট্র্যাকার কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ জানিয়েছে যে বিশ্ব মেমরি বাজার বর্তমানে একটি ‘হাইপার-বুল’ বা অত্যন্ত তেজী পর্যায়ে প্রবেশ করেছে যার ফলে গত ত্রৈমাসিকে মেমরি চিপের দাম ৫০ শতাংশ বাড়ার পর এই চলতি ত্রৈমাসিকে আরও ৫০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিপাকে স্মার্টফোন ও টিভি কোম্পানিগুলো Electronics price hike India
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ডিরেক্টর তরুণ পাঠক জানিয়েছেন যে ভিভো (Vivo) এবং নাথিং (Nothing)-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলো ইতিমধ্যেই স্মার্টফোনের দাম ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে এবং স্যামসাং-এর মতো কোম্পানিগুলো সরাসরি দাম না বাড়িয়ে ক্যাশব্যাক বা ডিসকাউন্ট কমিয়ে দেওয়ার মতো কৌশল অবলম্বন করছে। টেলিভিশনের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক কারণ কোডাক এবং থমসনের মতো ব্র্যান্ড বিক্রেতা সুপার প্লাস্ট্রোনিক্স জানিয়েছে যে তারা তাদের প্রয়োজনীয় মেমরি চিপের মাত্র ১০ শতাংশ বর্তমানে সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছে যার ফলে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে পণ্যের দাম আরও কয়েক ধাপে বাড়তে পারে।
রিপাবলিক ডে সেলেও থাকবে না বড় ছাড়?
সাধারণত ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস বা ১৯শে জানুয়ারির সেলে ইলেকট্রনিক্স পণ্যে বড় ধরণের ছাড় পাওয়া যায় তবে এ বছর চিপ সংকটের কারণে ডিসকাউন্টের পরিমাণ ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন। গ্রেট ইস্টার্ন রিটেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ল্যাপটপের দাম ইতিমধ্যেই ৫ থেকে ৮ শতাংশ বেড়েছে যা বাজারে ক্রেতাদের চাহিদাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং অনেকে এখন নতুন পণ্য কেনার পরিকল্পনা স্থগিত করে ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ মোডে চলে গিয়েছেন।
বাজারের ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য প্রভাব
অল ইন্ডিয়া মোবাইল রিটেইলস অ্যাসোসিয়েশন (AIMRA) সতর্ক করে জানিয়েছে যে ২০,০০০ টাকার নিচের স্মার্টফোন সেগমেন্টে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সবথেকে বেশি পড়বে যার ফলে ২০২৬ সালে স্মার্টফোন শিপমেন্ট প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ কমে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দুর্বল অবস্থান এবং ৪জিবি আরডিআইএমএম (RDIMM) মেমরি চিপের দাম ২৫৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭০০ ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর বাজারকে এক চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


