
বছরের শেষদিকে এসেও অনেক ট্যাক্সদাতা এখনো তাঁদের আয়কর রিফান্ড পাননি। তবে এতে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। আয়কর বিভাগ দ্রুতগতিতে রিফান্ড পাঠানোর কাজ শুরু করেছে। নভেম্বরে সিবিডিটি (CBDT)-র প্রধান রবি আগরওয়াল ঘোষণা করেছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই সকলের রিফান্ড ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। আর সবচেয়ে সুখবর হল—যদি আপনি ডিসেম্বর মাসে রিফান্ড পান, তবে সেটি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি হবে।
কেন রিফান্ডের পরিমাণ বেশি আসছে?
যাঁদের রিফান্ড এখনও আসেনি, তাঁদের হতাশ না হয়ে খুশি হওয়া উচিত। কারণ বিলম্বিত রিফান্ডের ওপর আয়কর বিভাগ সুদও প্রদান করছে। অর্থাৎ, ডিসেম্বর মাসে রিফান্ড পেলে আপনি অতিরিক্ত সুদসহ টাকা পাবেন। গত কয়েক দিনে যারা রিফান্ড পেয়েছেন, তাঁরাও প্রত্যাশার তুলনায় বেশি টাকার রিফান্ড পেয়েছেন।
কেন বেশি টাকা দিচ্ছে আয়কর বিভাগ?
আয়কর আইনের ২৪৪এ (Section 244A) অনুযায়ী, যদি আয়কর বিভাগ রিফান্ড দিতে বিলম্ব করে, তাহলে সেই রিফান্ডের ওপর সুদ যোগ করা হয়। আইন অনুসারে, রিফান্ডের ওপর বার্ষিক সুদের হার ৬% নির্ধারিত রয়েছে। ফলে ট্যাক্সদাতাদের রিফান্ডের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হচ্ছে।
কেন দেরি হয় রিফান্ডে? ৫টি বড় কারণ:
রিফান্ড বিলম্ব সবসময় আয়কর বিভাগের দোষে হয় না। অনেক সময় ট্যাক্সদাতার ভুলের কারণেও দেরি হয়। দেখে নিন সাধারণ কিছু কারণ—
1. ডেটা মিল না হওয়া: ফর্মে দেওয়া তথ্য ও ডেটার মাঝে অসঙ্গতি থাকলে প্রসেসিং থেমে যায়।
2. ভুল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর: তাড়াহুড়োয় অনেকেই ভুল অ্যাকাউন্ট নম্বর দেন, ফলে রিফান্ড আটকে যায়।
3. বেশি পরিমাণ রিফান্ড দাবি: যাঁদের রিফান্ডের পরিমাণ বেশি, তাঁদের ফাইল যাচাই করতে বেশি সময় লাগে।
4. পুরনো কর বকেয়া: অতীতের বকেয়া কর বা অ্যাডজাস্টমেন্ট থাকলে রিফান্ড থেমে যায়।
5. টেকনিক্যাল সমস্যা: পোর্টালে সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যাও রিফান্ড বিলম্বের কারণ।
ট্যাক্সদাতাদের জন্য জরুরি পরামর্শ:
ট্যাক্সদাতাদের উচিত তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ভেরিফায়েড’ রাখা এবং নিয়মিত আয়কর পোর্টালে রিফান্ড স্ট্যাটাস চেক করা। রিফান্ড প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অধিকাংশ ট্যাক্সদাতা তাঁদের রিফান্ড পেয়ে যাবেন—আর তাতে থাকবে অতিরিক্ত অর্থও!




