নয়াদিল্লি: ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা ভারত (BSNL revival)সঞ্চার নিগম লিমিটেড (BSNL) দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠে নতুন করে জীবন ফিরে পাচ্ছে। মোদী সরকারের নেওয়া সাহসী পদক্ষেপের ফলে এই সংস্থাটি এখন শুধু টিকে থাকার লড়াইয়েই নয়, বরং বাজারে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যাওয়ার পথে। সম্প্রতি টেলিকম বিভাগ (ডিওটি) থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, বিএসএনএলের নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ৪৭,০০০ কোটি টাকার এক বিশাল ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার (ক্যাপেক্স) পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
এই তহবিল মূলত সংস্থার ৪জি নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে, নতুন টাওয়ার স্থাপন করতে এবং সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। গত অর্থবর্ষে বিএসএনএল রেকর্ড ২৫,০০০ কোটি টাকা খরচ করে এক লক্ষেরও বেশি ৪জি টাওয়ার স্থাপন করেছে, যার ফলে সংস্থাটি দীর্ঘ ১৮ বছর পর লাভের মুখ দেখেছে। এখন এই নতুন ৪৭,০০০ কোটি টাকার পরিকল্পনা বিএসএনএলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে এবং দেশের ডিজিটাল সংযোগকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।
পার্ক সার্কাসে সক্রিয় বাংলাদেশি মোবাইল পাচারচক্র!
এই আর্থিক সহায়তার পিছনে মূল উদ্দেশ্য হল বিএসএনএলকে বেসরকারি টেলিকম জায়ান্টদের সঙ্গে সমান তালে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা দেওয়া। বর্তমানে ভারতের টেলিকম বাজারে রিলায়েন্স জিও, ভারতী এয়ারটেল এবং ভোডাফোন আইডিয়ার মতো কোম্পানিগুলো আধিপত্য বিস্তার করে আছে। কিন্তু বিএসএনএলের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার উপস্থিতি বাজারে ভারসাম্য রক্ষা করে এবং গ্রামীণ এলাকায় সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা প্রদান নিশ্চিত করে।
স্বদেশী প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি ৪জি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিএসএনএল ইতিমধ্যে লক্ষ লক্ষ নতুন গ্রাহক যোগ করেছে। গত বছরের তুলনায় সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে, এবং অপারেটিং মার্জিনও দ্বিগুণের কাছাকাছি হয়েছে। কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এই সাফল্যকে আরও বাড়াতে বিএসএনএল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, প্রতিটি স্ট্র্যাটেজিক বিজনেস ইউনিটে এন্টারপ্রাইজ ব্যবসা ২৫-৩০ শতাংশ বাড়াতে হবে, ফিক্সড লাইন ব্যবসা কমপক্ষে ১৫-২০ শতাংশ এবং মোবাইল সার্ভিস ব্যবসা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়া গ্রাহক প্রতি গড় আয় (এআরপিইউ) বাড়াতে গ্রাহক সন্তুষ্টির উপর জোর দিতে বলা হয়েছে।
এই পরিকল্পনার ফলে বিএসএনএল শুধু আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবে না, বরং হাজার হাজার নতুন চাকরির সুযোগও সৃষ্টি হবে। মন্ত্রী সিন্ধিয়া জানিয়েছেন যে, ৪জি সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রায় ২৮,০০০ নতুন কর্মসংস্থান হবে। স্বদেশী সরঞ্জাম ব্যবহার করে তৈরি এই নেটওয়ার্ক ভারতকে বিশ্বের সেই নির্বাচিত দেশগুলোর মধ্যে স্থান দিয়েছে যারা নিজস্ব টেলিকম প্রযুক্তি তৈরি এবং ব্যবহার করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে ওড়িশায় এই স্বদেশী ৪জি নেটওয়ার্কের উদ্বোধন করেছেন, যার ফলে লক্ষাধিক গ্রামে প্রথমবার উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছেছে। এখন ৫জি-তে রূপান্তরের পরিকল্পনাও চলছে, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শুরু হতে পারে।
