কেটিএম (KTM)-কে অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের করতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে বাজাজ অটো (Bajaj Auto)। বিশ্ববিখ্যাত মোটরসাইকেল নির্মাতা কেটিএম বর্তমানে আর্থিক সংকটে ভুগছে এবং কোম্পানির টিকে থাকার জন্য জরুরি তহবিলের প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম দু’চাকার গাড়ি নির্মাতা বাজাজ অটো পরিত্রাতার ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত। তারা কেটিএম-এ মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে। বাজাজ মোট ১,৩৬০ কোটি টাকা লগ্নি করতে চলেছে, যা Duke-এর নির্মাণকারী সংস্থার বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট।
Bajaj এবং KTM-এর অংশীদারিত্ব
বর্তমানে বাজাজ অটো, বাজাজ অটো ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংস বিভি, নেদারল্যান্ডস-এর মাধ্যমে পিয়েরার বাজাজ এজি-এর ৪৯.৯ শতাংশ মালিকানা রাখে। এই পিয়েরার বাজাজ এজি-এর ৭৫ শতাংশ মালিকানা পিয়েরার মোবিলিটি এজি-এর কাছে রয়েছে। যা কেটিএম-এর মূল কোম্পানি। তারা দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং গত বছরের নভেম্বর থেকে কোম্পানিটি ফান্ডিং সংকটের মুখোমুখি। অর্থ সংগ্রহের জন্য কেটিএম বিভিন্ন ঋণদাতাদের সঙ্গে আলোচনায় ছিল, কিন্তু তেমন কোনো সফলতা আসেনি।
বাজাজ অটো-এর বিশাল বিনিয়োগ কেটিএম-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এই অর্থ কেটিএম-কে তার কার্যক্রম সচল রাখতে সাহায্য করবে এবং কোম্পানিটি তার উৎপাদন ও ব্যবসার প্রসারে মনোনিবেশ করতে পারবে।
এই বিনিয়োগের পরেও বাজাজ অটো কেটিএম-এর সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা অর্জন করবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এই বিনিয়োগের ফলে বাজাজ এবং কেটিএম-এর মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং দুটি কোম্পানি একসঙ্গে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যেতে পারবে। যদি বাজাজ, কেটিএম-এর নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ায়, তবে এটি বাজাজের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে, যা ভবিষ্যতে কেটিএম-কে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল ইউরোপীয় মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডে পরিণত করতে পারে।
বাজাজ (Bajaj Auto)-এর এই বিনিয়োগ কেটিএম (KTM)-এর জন্য এক নতুন আশার আলো এনে দিয়েছে। এই আর্থিক সহায়তা পেলে কেটিএম পুনরায় তার ব্যবসার উন্নতির দিকে মনোযোগ দিতে পারবে এবং নতুন মডেল বাজারে আনার জন্য কাজ শুরু করতে পারবে। ভবিষ্যতে বাজাজ এবং কেটিএম-এর পার্টনারশিপ কতদূর গড়াবে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে এটি নিশ্চিত যে, বাজাজের এই পদক্ষেপ কেটিএম-কে তার সংকট কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে এবং ইউরোপীয় মোটরসাইকেল বাজারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করবে।