
অসমের শিল্পায়নের পথে নতুন মাইলফলক (Assam)। মুখ্যমন্ত্রী ড০ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ঘোষণা করেছেন, খুব শীঘ্রই অসমে একটি শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফোন উৎপাদন ইউনিট স্থাপিত হতে চলেছে। এই ঘোষণা রাজ্যের শিল্প বৃদ্ধির জন্য বিরাট উৎসাহ যোগাবে। ১ জানুয়ারি গুয়াহাটিতে নববর্ষের প্রথাগত সাংবাদিক সম্মেলন ‘নতুন দিনর আলাপ’-এ মুখ্যমন্ত্রী এই খবর দিয়ে বলেন, টাটা সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের পাশাপাশি একটি নেতৃস্থানীয় মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অসমে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করবে।
এই ঘটনা অসমকে ভারতের ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।মুখ্যমন্ত্রী শর্মা বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হল অসমকে বিনিয়োগের গন্তব্যে পরিণত করা। দীর্ঘদিনের আন্দোলন, উগ্রবাদ এবং অশান্তির কারণে কোনও বড় শিল্পপতি অসমকে বিনিয়োগের জায়গা ভাবতেন না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। টাটা গ্রুপের সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টের পাশাপাশি এখন একটি লিডিং মোবাইল ফোন ম্যানুফ্যাকচারার অসমে আসছে।”
নিউজিল্যান্ড সিরিজেই দলে এন্ট্রি এই তারকার!
তিনি আরও যোগ করেন, এই শিল্প স্থাপন রাজ্যের যুবকদের জন্য হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এবং অসমের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ইতিমধ্যে অসমে টাটা গ্রুপের সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট জাগিরোডে চালু হয়েছে, যা দৈনিক কোটি কোটি চিপ উৎপাদন করবে। এর সঙ্গে মোবাইল উৎপাদন যুক্ত হলে রাজ্য ইলেকট্রনিক্স সেক্টরে দেশের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
এই ঘোষণার পিছনে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা। গত বছরগুলোতে অসম সরকার অ্যাডভান্টেজ অসম ইনভেস্টমেন্ট সামিটের মাধ্যমে বড় বড় শিল্পপতিদের আকৃষ্ট করেছে। টাটা সন্স চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন।
এর আগে টাটা গ্রুপ অসমে ৩০,০০০ কোটি টাকার ইলেকট্রনিক্স এবং মোবাইল উৎপাদনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই নতুন ইউনিট সেই পরিকল্পনারই অংশ। শর্মা বলেন, “অসম এখন দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে আমন্ত্রিত। এটা আমাদের শিল্পায়নের স্বীকৃতি।”অসমের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ছবি আরও উজ্জ্বল হয়েছে আরবিআইয়ের তথ্য অনুসারে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২০-২০২৫ সালে অসম ভারতের সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল রাজ্য। এই সময়ে রাজ্যের অর্থনীতি ৪৫ শতাংশ বেড়েছে, যা জাতীয় গড় ২৯ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। মাথাপিছু আয় ৫৪ শতাংশ বেড়ে ১,৫৯,১৮৫ টাকায় পৌঁছেছে। এই প্রবৃদ্ধির পিছনে শিল্প বিনিয়োগ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের ভূমিকা রয়েছে। মোবাইল উৎপাদন ইউনিট এলে যুবকদের কর্মসংস্থান বাড়বে, স্কিল ডেভেলপমেন্ট হবে এবং রাজ্যের জিডিপিতে বড় অবদান যোগ হবে।










