ভারতে ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা অ্যামাজনের! ২০৩০-এর মধ্যে ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান

ভারতের ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে আরও ত্বরান্বিত করতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের ঘোষণা করল অ্যামাজন। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘অ্যামাজন সম্ভাব সম্মেলন’-এর ষষ্ঠ সংস্করণে এই বিশাল বিনিয়োগ-রূপরেখা ঘোষণা করা হয়। এর সঙ্গে প্রকাশিত হয় কনসালটিং ফার্ম কীস্টোন স্ট্র্যাটেজির একটি অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন রিপোর্ট।

গত ১৫ বছরে ভারতে অ্যামাজনের মোট বিনিয়োগ ইতিমধ্যেই ৪০ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে। নতুন রিপোর্ট বলছে, ডিজিটাল ও শারীরিক পরিকাঠামো নির্মাণ থেকে কর্মী-মজুরি—সব মিলিয়ে অ্যামাজন বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী, সবচেয়ে বড় ই-কমার্স রপ্তানি সক্ষমকারী এবং শীর্ষ কর্মসংস্থান-সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম।

   

ডিজিটালাইজেশন, রফতানি ও কর্মসংস্থান—তিন স্তম্ভে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ

অ্যামাজন জানিয়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের মূল ভিত্তি হবে—

  • এআই-চালিত ডিজিটাল রূপান্তর
  • ভারতে তৈরি পণ্যের বৈশ্বিক রপ্তানি বৃদ্ধি
  • জাতীয় স্তরে বৃহত্তর কর্মসংস্থান

ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি দেশে বিস্তৃত করেছে বিশাল প্রযুক্তি ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক, ফুলফিলমেন্ট সেন্টার, ডেলিভারি অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম।

কীস্টোনের রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যামাজন এখন পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি ক্ষুদ্র ব্যবসাকে ডিজিটাইজ করেছে, ২০ বিলিয়ন ডলারের ই-কমার্স রপ্তানি সক্ষম করেছে, এবং ২০২৪ সালে ২৮ লাখেরও বেশি প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ, মৌসুমি ও সহায়ক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তি, অপারেশন, লজিস্টিক এবং কাস্টমার সাপোর্ট—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে আরও ১০ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা

অ্যামাজন জানাচ্ছে, আগামী ছয় বছরে তারা দেশে অতিরিক্ত ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে। ব্যবসার সম্প্রসারণ, ফুলফিলমেন্ট ও ডেলিভারি নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং প্যাকেজিং, ম্যানুফ্যাকচারিং, পরিবহনসহ সমান্তরাল খাতে চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

অ্যামাজনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইমার্জিং মার্কেট) অমিত আগরওয়াল বলেন,
“গত ১৫ বছরে ভারতের ডিজিটাল রূপান্তর অভিযাত্রার অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত। আত্মনির্ভর ও বিকশিত ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গে অ্যামাজনের উন্নয়ন পথ একেবারে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

এআই-শিক্ষা, প্রযুক্তি অ্যাক্সেস ও রফতানিতে বড় ঘোষণা

দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে অ্যামাজনের লক্ষ্য—

  • ১.৫ কোটি ক্ষুদ্র ব্যবসাকে এআই-চালিত টুল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া
  • লেন্স এআই, রুফাস, বহু-ভাষিক ইন্টারফেসের মতো এআই-নির্ভর শপিং অভিজ্ঞতা বাড়ানো
  • ৪০ লাখ সরকারি স্কুল-শিক্ষার্থীকে এআই-শিক্ষা ও প্রযুক্তি-ক্যারিয়ার সচেতনতা কর্মসূচির আওতায় আনা
  • এই শিক্ষা প্রকল্প জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP 2020)-র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হবে।

রফতানি ক্ষেত্রে অ্যামাজনের লক্ষ্যও উচ্চাকাঙ্ক্ষী৷ বর্তমানে যে ই-কমার্স রপ্তানি ২০ বিলিয়ন ডলার, তা ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০ বিলিয়নে উন্নীত করা।

অমিত আগরওয়াল বলেন, “এআই-এর গণতন্ত্রায়ন, ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান এবং ৮০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি—এই তিন লক্ষ্য নিয়েই আমরা ভারতের বৃদ্ধিযাত্রার অনুঘটক হতে চাই।”

ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে দেখছে অ্যামাজন

পর্যবসানে, আরও ৩৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ অঙ্গীকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভারত অ্যামাজনের বৈশ্বিক বৃদ্ধির মানচিত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার। ই-কমার্স, ক্লাউড, লজিস্টিক এবং এআই-চালিত ভোক্তা পরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা যত তীব্র হচ্ছে, ততই ভারতের বাজারে প্রযুক্তি অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান বিস্তারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চাইছে কোম্পানি।

অ্যামাজনের এই বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আগামী দশকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন