হাতির তাণ্ডবে কয়শো বিঘা আলু ও সবজি নষ্ট

চন্দ্রকোণা: খাবারের সন্ধানে চন্দ্রকোণার জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় নেমে বুনো হাতির (Wild Elephant) তাণ্ডব চালাচ্ছে। পরপর তিনদিন ধরে কৃষকের ফসল নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, বিঘার…

চন্দ্রকোণা: খাবারের সন্ধানে চন্দ্রকোণার জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় নেমে বুনো হাতির (Wild Elephant) তাণ্ডব চালাচ্ছে। পরপর তিনদিন ধরে কৃষকের ফসল নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, বিঘার পর বিঘা আলু ক্ষেত হাতি মাড়িয়ে খেয়ে ফেলে এবং বিভিন্ন শীতকালীন সবজি ক্ষেতও ধ্বংস হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকার কৃষকরা আতঙ্কিত।

আড়াবাড়ি রেঞ্জ থেকে ১২টি বুনো হাতির একটি দল প্রথমে কামারখালি জঙ্গলে প্রবেশ করে। এরপর তারা ধীরে ধীরে জঙ্গল সংলগ্ন মাঠে নেমে তাণ্ডব চালায়। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ হাতির দলটি ভগবন্তপুর দু-নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ধান্যঘরি, ভগবন্তপুর, খিরেটি ও কমরপুর এলাকায় প্রবেশ করে। আলু চাষের জমি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

   

রাতভর চলা এই তাণ্ডবে বিঘার পর বিঘা আলু ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালং শাক সহ অন্যান্য শীতকালীন সবজি ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু কৃষক অভিযোগ করেছেন, ফসল ঘরে তোলার মুখেই এমন বিপর্যয় তাদের সম্পূর্ণ বিপন্ন করেছে। কেউ কেউ ঋণ করে চাষ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বন দফতরকে বহুবার জানানো হলেও হাতির দল সরাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। আতঙ্কে বহু পরিবার রাত জেগে পাহারা দিয়েছে। বিশালাকার বুনো হাতির সামনে সাধারণ মানুষের কিছু করার ছিল না।

শনিবার ভোররাত পর্যন্ত তাণ্ডব চালানোর পর হাতির দলটি শিলাবতী ও কেঠিয়া নদী পেরিয়ে গড়বেতার সন্ধিপুরের দিকে চলে যায়। আপাতত হাতির দল অন্যত্র চলে যাওয়ায় চাষিরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। যেকোনো সময় আবার হাতির দল ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় মানব-হাতি সংঘাত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় নতুন করে সামনে এসেছে। চাষিরা দাবি করেছেন, জঙ্গল এলাকায় খাবারের অভাব থাকায় হাতি বারবার লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধান, পর্যাপ্ত বনাঞ্চলে খাবারের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।

কৃষকেরা আরও জানিয়েছেন, সরকারি সাহায্য না পেলে আগামীতে ফসল চাষ করা কঠিন হয়ে যাবে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ও বন দফর কীভাবে এই মানব-হাতি সংঘাত রোধ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়।