HomeBusinessAgricultureআখের ফলন বৃদ্ধিতে চিনি উৎপাদনে নতুন রেকর্ডের সম্ভাবনা

আখের ফলন বৃদ্ধিতে চিনি উৎপাদনে নতুন রেকর্ডের সম্ভাবনা

- Advertisement -

ভারতের চিনি উৎপাদন আগামী ২০২৫-২৬ মৌসুমে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে চলেছে। ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (ISMA)-এর প্রথম অগ্রিম অনুমান অনুযায়ী, এই মৌসুমে চিনি উৎপাদন হবে ৩৪৩.৫ লক্ষ টন, যা ২০২৪-২৫ সালের ২৯৬.১ লক্ষ টনের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি।

এই অনুমান অক্টোবর ২০২৫-এ ধারণ করা বর্ষা-পরবর্তী স্যাটেলাইট চিত্রের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত আইএসএমএর নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এই তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সংস্থার মতে, অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং উন্নত ফলনের কারণে এ বছর উৎপাদনে রেকর্ড বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

   

আখের চাষের পরিমাণ ও আবহাওয়ার প্রভাব:
২০২৫-২৬ মৌসুমে আখের মোট চাষের এলাকা প্রায় ৫৭.৩৫ লক্ষ হেক্টর, যা গত বছরের ৫৭.১১ লক্ষ হেক্টরের তুলনায় সামান্য ০.৪ শতাংশ বেশি। বর্ষা ভালো হওয়া, পর্যাপ্ত জলাধার সংরক্ষণ এবং আখ উন্নয়ন কর্মসূচির ফলেই এ উন্নতি দেখা গেছে।
আইএসএমএ জানিয়েছে, দেশের অধিকাংশ আখ বেল্টে ভালো বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং জলাধারে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে, যার ফলে ফসলের অবস্থা “ভালো থেকে খুব ভালো” পর্যায়ে রয়েছে।

মহারাষ্ট্রে রেকর্ড উৎপাদনের সম্ভাবনা:
দেশের প্রধান চিনি উৎপাদনকারী রাজ্য মহারাষ্ট্র এবার রেকর্ড ১৩০ লক্ষ টন চিনি উৎপাদনের পথে। গত মৌসুমে এই সংখ্যা ছিল ৯৩.৫১ লক্ষ টন — অর্থাৎ প্রায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি প্রত্যাশিত। রাজ্যে আখ চাষের এলাকা বেড়েছে ১৩.৮২ লক্ষ হেক্টর থেকে ১৪.৭১ লক্ষ হেক্টরে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, উন্নত জলাধার অবস্থা এবং উচ্চ ফলনশীল আখ জাতের ব্যবহারে এই বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কর্ণাটক ও উত্তরপ্রদেশে উৎপাদন বৃদ্ধি:
কর্ণাটকে আখের চাষ বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ৬.৮ লক্ষ হেক্টরে। এখানে চিনি উৎপাদনের পরিমাণ অনুমান করা হয়েছে ৬৩.৫ লক্ষ টন, যা গত বছরের ৫৪.৮৯ লক্ষ টনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

উত্তরপ্রদেশে যদিও আখের চাষের এলাকা প্রায় ৩ শতাংশ কমে ২৩.৩০ লক্ষ হেক্টর থেকে ২২.৫৭ লক্ষ হেক্টরে নেমেছে, তবুও উন্নত ফসলের স্বাস্থ্য, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন জাতের আখ ব্যবহারের কারণে উৎপাদন বেড়ে ১০৩.২ লক্ষ টনে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইথানল উৎপাদন ও রপ্তানি সম্ভাবনা:
২০২৫-২৬ মৌসুমে ইথানল উৎপাদনের জন্য প্রায় ৩৪ লক্ষ টন চিনি ব্যবহার করা হবে, যা গত বছরের ৩৫.০১ লক্ষ টনের তুলনায় সামান্য কম। ইথানলে এই অংশ বাদ দিলে নিট চিনি উৎপাদন হবে ৩০৯.৫ লক্ষ টন, যা ২০২৪-২৫ সালের ২৬১.০৮ লক্ষ টনের তুলনায় অনেক বেশি।

আইএসএমএ জানিয়েছে, পর্যাপ্ত চিনি মজুত থাকায় ভারত এ মৌসুমে প্রায় ২০ লক্ষ টন চিনি রপ্তানির অবস্থানে রয়েছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্র সরকার ১৫ লক্ষ টন চিনি রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে এবং গুড়ের (molasses) রপ্তানির উপর ৫০ শতাংশ শুল্কও তুলে নিয়েছে।
ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী ৭ নভেম্বর কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াহকে লেখা এক চিঠিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

- Advertisement -
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular