কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর। কেন্দ্র সরকার সম্প্রতি অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission)-এর Terms of Reference (ToR) অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর বেতন ও পেনশনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির আশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেতন সংশোধনের দাবিতে থাকা কর্মীদের মধ্যে এই ঘোষণায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কী?
অষ্টম বেতন কমিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor)। সহজভাবে বললে, এটি একটি গুণক বা মাল্টিপ্লায়ার, যার মাধ্যমে বর্তমান বেসিক বেতন থেকে নতুন বেসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়। এই ফ্যাক্টরের মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সামলে কর্মচারীদের প্রকৃত আয়কে স্থিতিশীল রাখা।
কীভাবে নির্ধারিত হবে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অষ্টম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে
কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে
সরকারের আর্থিক অবস্থান ও রাজস্ব ভারসাম্য
দক্ষ ও যোগ্য কর্মীদের সরকারী পরিষেবায় ধরে রাখার প্রয়োজন
কর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শেষবার বেতন সংশোধন হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে। এই সময়ে ঘরোয়া খরচ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অনেক বেড়েছে। তাই বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কাঠামো নতুন করে সাজানো অত্যন্ত জরুরি।
সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত হতে পারে?
যদিও সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংখ্যা ঘোষণা করেনি, তবে প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ১.৮৩ থেকে ২.৫৭-এর মধ্যে হতে পারে। যদি সর্বোচ্চ ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারিত হয়, তাহলে কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন ও পেনশনে বড়সড় বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।
৭ম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত ছিল?
৭ম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭। তবে এটি পুরো বেতনের ওপর নয়, শুধুমাত্র বেসিক পে-এর ওপর প্রযোজ্য ছিল। পাশাপাশি, নতুন বেতন কমিশন কার্যকর হলে ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স (DA) শূন্য থেকে শুরু হয়, কারণ তখন নতুন করে মূল্যসূচক গণনা শুরু হয়। অষ্টম বেতন কমিশনেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হতে পারে।
কর্মচারীদের জন্য কী বিশেষ সুবিধা?
যদি অষ্টম বেতন কমিশনে উচ্চ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারিত হয়, তাহলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে মাসিক বেতন, পেনশন ও অন্যান্য ভাতায়। ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির এই সময়ে এটি সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় স্বস্তি এনে দেবে। সংক্ষেপে বললে, অষ্টম বেতন কমিশনের লক্ষ্য শুধু বর্তমান আয় বৃদ্ধি নয়, বরং কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তাকেও আরও মজবুত করা।


