শ্রীনগর: পাকিস্তান-অধিকৃত বালুচিস্তানে ফের চাঞ্চল্য। (Bilal Akhun)পানজগুর জেলার চিতকান এলাকায় আবারও রহস্যময় ‘অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের’ আবির্ভাব ঘটেছে। হরকত-উল-মুজাহিদিন (HuM)-এর সক্রিয় জঙ্গি বিলাল আখুনকে নিঃশব্দে খতম করা হয়েছে। কোনো সতর্কবার্তা নয়, কোনো দাবি নয় শুধু নীরব ন্যায়বিচার। এই ঘটনা জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ানের এক জঙ্গির জীবনের অন্ধকার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়েছে।
বিলাল আখুন শোপিয়ান জেলার বাসিন্দা ছিলেন। ২০১১ সালে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে চলে যান এবং সেখানে ‘সাজিদ হুসেন’ নামে পরিচয় গড়ে তোলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হরকত-উল-মুজাহিদিনের হয়ে কাজ করছিলেন। এই সংগঠন ভারতে অনেকগুলো বড় বড় জঙ্গি হামলার সঙ্গে যুক্ত। পাকিস্তানের মাটিতে বসে তিনি কাশ্মীরে অস্থিরতা ছড়ানোর পরিকল্পনা করতেন বলে ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
আরও দেখুনঃ অভিষেকের প্রচারে তৃণমূলের ৫ প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়ন বার্তা
কিন্তু গত কয়েকদিন আগে চিতকানের একটি এলাকায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পাকিস্তানি পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট তদন্তের খবর দেয়নি, যা এই ধরনের ঘটনায় নতুন কিছু নয়।‘অজ্ঞাত বন্দুকধারী’ এই শব্দটি গত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকজন জঙ্গি নেতার মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।
কখনো বালুচিস্তান, কখনো করাচি, কখনো বা পাঞ্জাবে এমন ঘটনা ঘটছে। কেউ বলেন, এর পেছনে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। কেউ আবার মনে করেন, এটি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নীরব অভিযানের ফল। তবে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করে না। ফলে রহস্য আরও গভীর হয়।বিলাল আখুনের মৃত্যুতে কাশ্মীরের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে স্বস্তির হাওয়া বইছে। ২০১১ সালে তিনি যখন পাকিস্তানে পালিয়ে যান, তখন থেকেই তাঁর নামে একাধিক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের অভিযোগ ছিল।
শোপিয়ান ও আশপাশের এলাকায় তাঁর যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ছিল বলে জানা যায়। পাকিস্তানে বসে তিনি নতুন প্রজন্মের জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ও অর্থ সরবরাহের কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সেই নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে।এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সীমান্তের ওপারেও নজর রাখা হচ্ছে। ভারত বারবার বলেছে, যারা ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালায়, তাদের কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না।
বিলাল আখুনের মতো যারা ১৩-১৪ বছর ধরে পাকিস্তানে লুকিয়ে ছিলেন, তাঁদেরও শেষ পর্যন্ত হিসাব দিতে হয়। পাকিস্তানের মাটিতে এমন হত্যাকাণ্ড বারবার প্রমাণ করছে যে,জঙ্গিদের জন্য সেখানকার ‘নিরাপদ আশ্রয়’ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে।বালুচিস্তানে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। সেখানে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের যোগাযোগের খবর প্রায়ই উঠে আসে। পানজগুর অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (CPEC)-এর কাজও চলছে। হয়তো এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা চলছিল। বিলাল আখুনের মৃত্যু সেই চক্রে একটা বড় ফাটল ধরিয়েছে।




















