
পূর্ব বর্ধমানে ফের সিসি ক্যামেরা (Strong room CCTV Issue) বিভ্রাটকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল রাজনৈতিক মহলে। এবার সরাসরি অভিযোগ তুলেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোট গণনার আগে এমন সংবেদনশীল সময়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে।
জেলার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা (Strong room CCTV Issue) আউশগ্রাম, ভাতাড়, গলসি, বর্ধমান উত্তর ও বর্ধমান দক্ষিণের স্ট্রং রুম রাখা হয়েছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাপবাগ ক্যাম্পাসের ইউআইটি ভবনে। এই স্ট্রং রুমগুলিতে ইভিএম এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সরঞ্জাম সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়া হওয়ার কথা। বহুস্তরীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি সিসিটিভি নজরদারি থাকার কারণে এই ধরনের জায়গাকে সাধারণত সম্পূর্ণ নিরাপদ বলেই মনে করা হয়।
কিন্তু সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেই ফাঁক থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। রবিবার সকালে আউশগ্রাম বিধানসভার স্ট্রং রুমে থাকা সিসি ক্যামেরা প্রায় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট বন্ধ ছিল বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে আরও নির্দিষ্ট করে জানানো হয়েছে, সকাল ৯টা ২৪ মিনিট থেকে ১০টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত ক্যামেরাগুলি কার্যত অচল ছিল। এই সময়ে স্ট্রং রুমের ভেতরে কী ঘটেছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ দানা বাঁধছে।
এই ঘটনায় জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি স্বরাজ ঘোষ সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা সকাল থেকেই স্ট্রং রুমের নিরাপত্তার উপর নজর রাখছিলেন। হঠাৎই দেখা যায় সিসিটিভি ক্যামেরা কাজ করছে না। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এমনকি নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা বা সমাধান মেলেনি বলেই অভিযোগ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলিও বিষয়টি নিয়ে সরব হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভোট গণনার আগে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও রকম প্রশ্ন ওঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বিষয়। সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ থাকার ফলে নজরদারিতে যে ফাঁক তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই মূলত উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে সূত্রের খবর, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই এই বিভ্রাট ঘটে থাকতে পারে। তবুও, এত দীর্ঘ সময় ধরে ক্যামেরা বন্ধ থাকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই ধরনের ফাঁক ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।







