লাল-হলুদের পর লগ্নিকারী সংস্থার সঙ্গে বিবাদে (Investor controversy) জড়াল মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব (Mohammedan SC)। বর্তমানে তা এতটাই গুরুতর যে তাদের ইনভেস্টর বাঙ্কারহিলের সঙ্গে এবার সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় সাদা-কালো ব্রিগেড। অথচ একটা সময় এই সংস্থার আশার পরেই সুদিন ফিরেছিল রেড রোডের এই ক্লাবের। বহু দিনের প্রতীক্ষার পর কলকাতা লিগ জিতেছিল মহামেডান। ভালো পারফরম্যান্স ও করতে শুরু করেছিল আইলিগ ও ডুরান্ডের মতো টুর্নামেন্টে। তবে ক্লাবের শেয়ার নিয়েই গত বছর থেকে সংঘাত দেখা দেয় উভয়পক্ষের কর্তাদের মধ্যে।
আসলে এই লগ্নিকারী সংস্থার সঙ্গে প্রথমে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তাতে পঞ্চাশ শতাংশ শেয়ার বাঙ্কারহিলের ও বাকি পঞ্চাশ শতাংশ ক্লাব কর্তাদের কাছে রাখার উল্লেখ করা হয়। তাতেই রাজি হয় বাঙ্কারহিলের কর্মকর্তারা। তবে পরবর্তীতে দলের আইএসএল খেলার পাশাপাশি দলের উন্নতির মতো বিষয় গুলি কে উল্লেখ করে আর এক শতাংশ শেয়ার বৃদ্ধি করার কথা জানানো হয় তাদের তরফে। যারফলে, তা গিয়ে দাঁড়ায় ৫১ শতাংশে। এখান থেকেই ঝামেলার সূত্রপাত।
আসলে ক্লাবের কতৃত্ব হারানোর সংশয়ের জেরেই নাকি এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছিলেন না সাবেক কর্তারা। যা দেখে অখুশি ছিলেন বাঙ্কারহিল কর্তা দীপক কুমার সিং। তবে আলোচনা করে গোটা বিষয়টিকে মেটানোর পরিকল্পনা থাকলেও সময় যত এগিয়েছে ততই তিক্ততা তৈরি হয়েছে ইনভেস্টরদের সঙ্গে। যারফলে এবার বিচ্ছেদ পথে এই সম্পর্ক। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনো কিছুই ঘোষনা করা হয়নি কারুর তরফ থেকে।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর ধরেই ক্লাব ও ইনভেস্টর নিয়ে ডামাডোল পরিস্থিতির সাক্ষী থেকেছে কলকাতা ময়দান। কোয়েসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর আইএসএল খেলার পাশাপাশি দলের পরবর্তী ইনভেস্টর নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছিল লাল-হলুদের অন্দরে। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর দরবারেই আসতে হয়েছিল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার কে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে শ্রী সিমেন্ট। তবে কিছুটা সময় যেতে না যেতেই ফের অশান্তি শুরু হয়ে যায় লাল-হলুদের সংসারে। এরপর শ্রী সিমেন্ট কে ক্লাব ছাড়া করার পর ফের মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতায় ইমামির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব।