পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন সিঙ্গাপুরের প্রাক্তন কূটনীতিক বিলালহরি কৌশিকন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, দশকের পর দশক ধরে দুর্বল শাসন, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর বাড়বাড়ন্তের ফলে পাকিস্তান এখন কার্যত এক ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’-এর (failed state) দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।
রাজনীতিবিদরা ‘সময়ের অপচয়’
ন্যাশনাল প্রেস ফাউন্ডেশনের একটি অনুষ্ঠানে এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে কৌশিকন সাফ জানিয়ে দেন যে, ভৌগোলিক অবস্থানের দোহাই দিয়ে পাকিস্তান নিজেদের দায় এড়াতে পারে না। তিনি বলেন, “আপনাদের রাজনীতিবিদরা যে দলেরই হোন না কেন, তাঁরা পুরোপুরি সময়ের অপচয়। আর সামরিক বাহিনীও এই সমস্যার একটি বড় অংশ।”
১৯৯১ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতি
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে কৌশিকন ১৯৯১ সালের সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ছিনতাইয়ের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার উল্লেখ করেন। সেই সময় চার পাকিস্তানি জঙ্গি বিমানটি ছিনতাই করে তৎকালীন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর সাথে কথা বলার দাবি জানিয়েছিল। কৌশিকন জানান, গভীর রাতে তিনি বেনজির ভুট্টোর বাসভবনে ফোন করে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করেন। কারণ, ছিনতাইকারীরা হুমকি দিয়েছিল, ভুট্টোর সাথে কথা না হলে তারা যাত্রীদের হত্যা করা শুরু করবে।
কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল ভয়াবহ। তিনি বলেন, “আমি তিনবার বিস্তারিত বুঝিয়ে বললাম পরিস্থিতির গুরুত্ব। শেষে ওপাশ থেকে উত্তর এল,‘ম্যাডাম ঘুমাচ্ছেন, বিরক্ত করা যাবে না’। এই বলেই ফোনটি কেটে দেওয়া হলো!” কৌশিকন জানান, এরপরই সিঙ্গাপুরের নিরাপত্তা বাহিনী অভিযানে নেমে সব ক’জন ছিনতাইকারীকে নিকেশ করে যাত্রীদের উদ্ধার করে। তিনি এই ঘটনাকে পাকিস্তানের ‘সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা’র এক বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
কূটনৈতিক সাফল্য বনাম বাস্তব
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের কিছু কূটনৈতিক সাফল্যের প্রসঙ্গ উঠলে কৌশিকন বলেন, “পাকিস্তান হয়তো কূটনৈতিক সুযোগ কাজে লাগাতে দক্ষ, কিন্তু সেই সাফল্য জনগণের পেট ভরে না। দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা এবং জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বাড়বাড়ন্ত আটকাতে না পারলে রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকা অসম্ভব।”
শেষে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিশ্ব আজ পাকিস্তান নিয়ে চিন্তিত কারণ তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে। যদি তা না থাকত, তবে পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসেবে ঠিক কোন অবস্থায় আছে, তা নিয়ে কারো বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা থাকত না।”
ভারতকে অস্ত্র দেবে জাপান! দুই দেশকেই চিঠি দিয়ে সতর্ক করল উদ্বিগ্ন চিন
কাশ্মীরি রিফিউজিদের সঙ্গে দেখা করেননি কখনো! ইরানে খামেনেয়ি শেষকৃত্যে হাজির মেহবুবা


